ঢাকা   ০১:১৮:০৫ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় হালট – খাল উদ্ধারে নেই তৎপরতা

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Monday, May 4, 2026,
  • 425 Time View

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে হালট খাল। এক সময় স্থানীয় কৃষি, পানি নিষ্কাশন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত খাল গুলো  এখন প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে। কোথাও ঘর-বাড়ি, কোথাও দোকানপাট, আবার কোথাও মাটি ফেলে জমি তৈরি করা হয়েছে। ফলে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে খালটি পরিণত হচ্ছে আবর্জনার স্তূপে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু হালট খাল নয়—দেশজুড়েই খাল দখল ও অব্যবস্থাপনা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখনন না হওয়া, দখল ও কচুরিপানার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।  একই ধরনের চিত্র মেঘনা উপজেলার হালট খালেও দৃশ্যমান। কিছু অসাধু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে একাধিক খাল কাগজ কলমে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে খালের পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়া হতো এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয়ে যেত। এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জমিতে পানি জমে থাকে, ফলে বোরো ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমি পতিত রেখে দিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, খাল দখলের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নীরবতা। অভিযোগ রয়েছে, দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও দেখা গেছে, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখল ও প্রভাবের কারণে নদী-খাল উদ্ধারে প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বা উদ্যোগ নিতে বিলম্ব করছে।  একটি শিল্পগোষ্ঠীর থাবায় অনেক খাল হালট দখল করা হয়েছে। দখল করা হয়েছে নদীর ভুমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করে খাল ভরাট করে করা হচ্ছে সড়ক এতে অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। একদিকে শিল্পগোষ্ঠী দিচ্ছে মোটা অংকের টাকা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ থেকে তোলা হয়েছে টাকা। একই খালকে সরকারি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করার জন্য চলছে তদবির।
পরিবেশবিদরা বলছেন, খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের অংশ। খাল ভরাট হলে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বরং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, মাছের প্রজনন এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল ভরাট ও দূষণের কারণে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছে দায়সারাভাবে, প্রশাসনের রহস্যময় ভুমিকা সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ, প্রতিবাদ বা লেখালেখি করলে রাজনৈতিক দল ধারা মবের ইন্ধন যোগায় এমন অভিযোগ উঠেছে ।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত হালট খাল উদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে খাল পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি এবং পরিবেশ বিপর্যয় সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব পড়বে পুরো এলাকায়।মেঘনায় হালট খাল এখন শুধু একটি জলাধার নয়, এটি অব্যবস্থাপনা ও দখল সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে—যেখানে দায় এড়ানো আর দীর্ঘসূত্রতাই যেন একমাত্র বাস্তবতা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি