• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় কালভার্ট আছে, সড়কে সংযোগ নেই দেলোয়ার হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান, জব্দ ১৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য শিশুমৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হয়নি, উঠছে প্রশ্ন মেঘনা-তিতাস উপজেলার চরের জমি দ্বন্দ্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি, হতে পারে হতাহত জিয়া শিশু কিশোর মেলার গাজীপুর মহানগর কমিটির অনুমোদন মৌলভীবাজার থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রম্য: বিদ্যুৎহীন আলোর দেশে জুন ক্লোজিং দুই দশক ধরে সওজের জমি দখল করে ৭০ দোকান নির্মাণ, কোটি টাকার বাণিজ্য! কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান

মেঘনায় কালভার্ট আছে, সড়কে সংযোগ নেই

বিপ্লব সিকদার / ৬৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; সেই অবকাঠামো মানুষের কাজে লাগছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে নির্মিত রামনগর খেলার মাঠ থেকে উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক পাওয়ার হাউজ সংযোগ সংযোগ সড়কের  কালভার্ট ঘিরে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
উপজেলা পরিষদ ও থানা সংলগ্ন রামনগর গ্রামের একটি সংযোগপথে সম্প্রতি একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

 

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতায়  কালভার্ট নির্মাণের পরও এর দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক তৈরি না হওয়ায় সেটি কার্যত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে যে সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল, তার পরিবর্তে ভোগান্তিই যেন নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো প্রাকৃতিক খাল নয়; ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর সড়ক নির্মাণের জন্য মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট জলধারা। কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ও প্রবাহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামটির দুই পাশে বসতি গড়ে ওঠায় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অবকাঠামোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো প্রকল্পের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, কালভার্ট নির্মাণে দরপত্র অনুযায়ী কাজের মান বজায় রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়েও এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন। যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা। জনগণের অর্থে নির্মিত কোনো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কখনোই হালকাভাবে নেওয়া যায় না।রামনগর গ্রামের বাস্তবতা আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। কালভার্টের পূর্ব পাশে রয়েছে গ্রামের মানুষের ওয়াকফ এস্টেট কবরস্থান। পশ্চিম পাশের বাসিন্দাদের কেউ মারা গেলে লাশ নিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে কবরস্থানে যেতে হয়। একটি সংযোগ সড়ক থাকলে যে পথ কয়েক মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব, তা এখন পরিণত হয়েছে কষ্টসাধ্য যাত্রায়। জীবিত মানুষের চলাচল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মৃত মানুষের শেষ যাত্রার পথও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।গ্রামবাংলার উন্নয়ন নিয়ে আমরা প্রায়ই বড় বড় প্রকল্পের কথা বলি। কিন্তু বাস্তবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে এমন ছোট ছোট অবকাঠামোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। একটি কালভার্ট নির্মাণ করে যদি তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সড়ক সংযোগ না দেওয়া হয়, তবে তা অনেকটা দরজা বানিয়ে পথ বন্ধ রাখার মতোই।আমরা মনে করি, মেঘনা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা। কালভার্টের নির্মাণমান যাচাইয়ের পাশাপাশি দুই পাশের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা মানুষের বাস্তব চাহিদা পূরণ করবে এবং জনদুর্ভোগ কমাবে।
রামনগরের মানুষের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি। তাই ‘কালভার্ট আছে, সড়ক নেই’ এই অদ্ভুত বাস্তবতার দ্রুত অবসান হওয়াই এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন