• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা ঠাকুরগাঁও রোডে পূবালী ব্যাংকের বাংলা কিউআর বুথ উদ্বোধন মীর হেলালের নির্দেশনায় হাটহাজারীতে বন্যার্তদের পাশে ছাত্রদল নেতা তকিবুল বেনাপোল বন্দরে জব্দকৃত ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা পাচারের শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার গাইবান্ধায় ডিবির অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন ২৭ সেপ্টেম্বর কটিয়াদীতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লোহাগাড়ায় বিএনপির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে উপহারসামগ্রী বিতরণ শ্যামনগরে রাস্তার ইট সরিয়ে জনদুর্ভোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে দ্রুত সংস্কারের আবেদন জলাবদ্ধতায় প্লাবিত ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শনে কমিশনার প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়াকিল

বেনাপোল বন্দরে জব্দকৃত ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রা পাচারের শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

মো: মনির হোসেন:

মিথ্যা ঘোষণায় ভারত থেকে আমদানি করা তিন হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার একটি জব্দকৃত চালান বন্দর থেকে পাচার হওয়ার আশঙ্কায় বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমস কর্তৃক জব্দকৃত পণ্য যাতে কেউ বের করে নিতে না পারে, সে অনুরোধ জানানোর পরই বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পণ্যগারে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জব্দ করা চালানটি বন্দরের ৩২ নম্বর পণ্যগারে রক্ষিত আছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির চেষ্টা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে বন্দর থেকে জব্দকৃত মালামাল গায়েব, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মালামাল পাচারসহ নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই বন্দর কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে। তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ আমদানিকারক ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে ১৬ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করে। চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল হায়দার অ্যান্ড সন্স নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান।

সন্দেহের ভিত্তিতে ল্যাব পরীক্ষায় চালানটিতে ১৩ ধরনের রাসায়নিক পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিন হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার কাঁচামাল (সিলডেনাফিল সাইট্রেট) এবং বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধের অননুমোদিত কাঁচামাল জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ মে বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ সোডিয়াম গ্লাইকুলেট ঘোষণা দিয়ে ১০০ ড্রামে দুই হাজার ৭০০ কেজি পাউডারজাতীয় রাসায়নিক আমদানি করে। পরীক্ষায় সেটিও ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত হয়। আগের পণ্যটি বন্দরের ৩৪ নম্বর শেডে রাখা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি কাস্টমসের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা জব্দকৃত ভায়াগ্রার চালানও বন্দর পণ্যগার থেকে অবৈধভাবে বের করে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এর পরই ১ জুলাই বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জব্দকৃত ভায়াগ্রা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই বন্দরের সংশ্লিষ্ট ৩২ ও ৩৪ নম্বর শেডে আনসার সদস্য, বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আল-আরাফা এবং বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক অতিরিক্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, গত মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য পাচারের অভিযোগে কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তাকর্মী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকেই বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে বন্দর ও কাস্টমসের পণ্যগার থেকে বিভিন্ন পণ্য পাচার হয়ে আসছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, এ ধরনের বিপুল পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বা ভায়াগ্রা দেশের বাজারে প্রবেশ করলে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রহমত বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে ব্যবসা কমিয়ে দিয়েছেন বা বন্ধ করে দিয়েছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, কাস্টমসের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যগারগুলোতে ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আনসার, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও বন্দরের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া আরও একটি শেডেও ভায়াগ্রা সন্দেহে একটি চালান দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সেখানেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতার সুযোগ রাখা হচ্ছে না।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাসায়নিক পরীক্ষায় ওই চালানে ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া যায়। বর্তমানে চালানটি কাস্টমসের হেফাজতে বন্দরের ৩২ নম্বর শেডে রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন