মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় একই রাতে দুটি পৃথক স্থানে ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় অন্তত ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার টেংগারচর ও বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। পরপর দুই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন আবু তালেব খন্দকারের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতদের হাতে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে আলমারি ও ওয়ারড্রবের তালা ভেঙে চার ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির শিকার পরিবারের সদস্য খন্দকার আবু ইউসুফ বলেন, “আমাদের বাড়িটি নিরিবিলি স্থানে হওয়ায় ডাকাতরা সহজেই প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।”
একই রাতে শেষ প্রহরে, রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আখি স্টোর নামে একটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরেরা দোকানের টিনের চালা কেটে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।
দোকান মালিক আবু সাঈদ শিকদার বলেন, “গভীর রাত পর্যন্ত স্ট্যান্ডে লোকজন ছিল। আমার ধারণা রাত তিনটার পর কোনো এক সময় চোরেরা দোকানের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে একটি অভিযানে আছি। এখনও থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এক রাতে পরপর ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।