চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তোলতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরাও নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করছে।
রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবে না বিএনপি। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের খাদ্যসংকট দূর করতে সরকার ও দলীয় নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের নজিরবিহীন বন্যার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেট, কালভার্ট ও বাঁধ নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অবৈধ বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভরাট হয়ে যাওয়া নদী-খাল পুনঃখননেরও ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উমা খান কাফি, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ সারোয়ার, যুবদল নেতা গাজী মোহাম্মদ ফোরকান, জিয়াউদ্দিন জিয়া, ছাত্রদল নেতা ইসমাইল বিন মনিরসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।