ঢাকা   ০৪:০১:৫০ এএম, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সব ইতিহাস পদক দিয়ে লেখা হয় না

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 24, 2026,
  • 125 Time View

বিন্দুবাংলা টিভি. কম,স্পোর্টস ডেস্ক:

সব স্বপ্নের শেষ স্বর্ণ দিয়ে হয় না। সব ঘামের রংও পদকে বদলে যায় না। পৃথিবীর ক্রীড়া ইতিহাসে অসংখ্য অ্যাথলেট আছেন, যাদের নাম কোনো পদক তালিকায় নেই। তাদের চোখের জল, বুকের ভেতরের গর্ব আর দেশের পতাকা ছুঁয়ে দেখার মুহূর্তই হয়ে থাকে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

গ্লাসগোর ওভিও হাইড্রোর দরজা খুলেছে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের জন্য। এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছেন ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ। কেউ এসেছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে, কেউ অলিম্পিক পদকজয়ী, কেউ আবার প্রথমবার দেশের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রেখেছেন। মার্চপাস্টের মুহূর্তে তাদের সবার পরিচয় একটাই—নিজ দেশের প্রতিনিধি।

কয়েক দিনের মধ্যেই কারও গলায় স্বর্ণ উঠতে পারে। কারও হিট পার করাই হয়তো অসম্ভব। বিস্ময়করভাবে দুই মানুষের চোখেই তখন একই রকম আলো জ্বলে। স্টেডিয়ামের সেই কয়েক মিনিট কোনো স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না।

কমনওয়েলথ গেমসের মতো আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা কখনোই ফেবারিট নন। তাদের প্রতিপক্ষের অনেকেই বিশ্বরেকর্ডধারী, অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ বড় হয়েছেন সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অপ্রতুল অবকাঠামো আর কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।

সোনিয়া আক্তারের জন্য টোলক্রসের সুইমিং পুলে বিশ্বসেরাদের হারানো কঠিন। সামিউল ইসলাম রাফি ব্যাকস্ট্রোকে নিজের সেরাটা খুঁজছেন। রাকিব হোসেন এসইসি বক্সিং রিংয়ে এমন প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়েছেন, যার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি জিমন্যাস্টিকস অ্যারেনায় এমন সব কসরত দেখবেন, যা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বড় হয়েছেন।

কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বহু ছোট দেশ আছে, যারা কখনো পদক জেতেনি। সেই দেশগুলোর অ্যাথলেটদের চোখে পরাজয়ের হতাশার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্ত, যখন হাজারো দর্শকের করতালির মধ্যে তারা নিজেদের পতাকা অনুসরণ করে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। সেই মুহূর্তই তাদের কাছে অলিম্পিক ফাইনালের সমান মূল্যবান।

পদক একটি ব্যক্তিগত অর্জন। পতাকা বহন করা একটি জাতির বিশ্বাস কাঁধে তুলে নেওয়া। গ্লাসগোয় বাংলাদেশের লড়াইকে শুধু সময়, স্কোর কিংবা ফল দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে।

হয়তো এবারের গেমস শেষে বাংলাদেশের পদকঘর সমৃদ্ধ হবে না। হয়তো সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেবেন অন্য দেশের তারকারা। কিন্তু ইতিহাসের সব অধ্যায় পদক দিয়ে লেখা হয় না। কিছু ইতিহাস লেখা হয় সাহস দিয়ে, অংশগ্রহণ দিয়ে, শেষ পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতা দিয়ে।

আজ গ্লাসগোর আলোয় যখন লাল-সবুজের পতাকাটি উড়ছে, সেটি হয়ে উঠেছে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের স্বপ্নের প্রতীক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি