সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গুচ্ছগ্রামে সেফটি ট্যাংকির ভেতর থেকে আট মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে খবর পেয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএমের নেতৃত্বে এসআই মোহন দাসসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় সেফটি ট্যাংকির ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শিশুর নাম আমির হামজা (৮ মাস)। সে লালপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—লালপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে মণির হোসেন (৩০), আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), মণির হোসেনের মা রাবেয়া বেগম (৫৫) এবং জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আফিয়া বেগম (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে শিশুটির মা সাবিকুন নাহার ছেলেকে তার বাবার কাছে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে শ্বশুরবাড়িতে যান। সকাল ৭টার দিকে শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেন ঘুম থেকে উঠে বিছানায় সন্তানকে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা নাঈম মিয়া সেফটি ট্যাংকির কাছে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকির ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত শিশুর বাবা সাব্বির হোসেনের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্দেহজনক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।