ঢাকা   ১২:১১:৩৫ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এতিম শিক্ষার্থীর চোখে শুকায় না অশ্রু

মেঘনা প্রতিনিধি
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026,
  • 154 Time View

 

চরবিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই ছোট্ট শ্রেণিকক্ষটি আজও আছে। আছে বেঞ্চ, ব্ল্যাকবোর্ড, খেলার মাঠ আর সকালের শিশিরভেজা পথ। শুধু বদলে গেছে কয়েকটি শিশুর জীবন। যে হাত একসময় মায়ের হাত ধরে স্কুলে আসত, সেই হাত আজ শূন্য। যে মুখে ছিল নিশ্চিন্ত হাসি, সেখানে এখন নীরব কান্নার ছাপ।
কয়েক বছর আগে এই বিদ্যালয়ে টানা তিন বছর শিক্ষকতা করেছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। গ্রামের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি উঠান, প্রতিটি শিশুর মুখ আজও তাঁর স্মৃতিতে অম্লান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
তিনি লিখেছেন, সকালে স্কুলে পৌঁছেই দেখতেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা টেবিলজুড়ে ফুল বিছিয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে!
তিনি আরও স্মরণ করেন, দুপুরে তিনি কখনো বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতেন না। গ্রামের কোনো না কোনো পরিবারের দাওয়াত থাকত। বিশেষ করে তাঁর প্রিয় ছাত্র শাকিল ও তার বোন বিথী প্রায়ই হাসিমুখে তাঁর জন্য খাবার নিয়ে আসত। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই নিষ্পাপ দুটি মুখ আজও যেন তাঁর চোখে ভাসে।
কিন্তু সময় বড় নির্মম। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর মাঝেই হঠাৎ নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। যে শিশু একদিন মায়ের হাতের রান্না শিক্ষককে খাইয়ে আনন্দ পেত, আজ সেই শিশুকেই মাকে হারানোর অসহনীয় বাস্তবতা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর স্ট্যাটাসে লিখেছেন, এই নির্মম ঘটনার কথা ভেবে তিনি মর্মাহত ও বাকরুদ্ধ। তিনি মহান আল্লাহর কাছে নিহত কুহিনূরের পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেছেন এবং বিশেষ করে এতিম হয়ে পড়া সন্তানদের জন্য দোয়া করেছেন।
একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থী শুধু পাঠ্যবইয়ের একটি নাম নয়; তারা হয়ে ওঠে নিজের সন্তানের মতো। তাই বহু বছর পরও কোনো শিক্ষার্থীর কান্না একজন শিক্ষকের হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়। চরবিনোদপুরের সেই স্মৃতিগুলো আজ যেন আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।
মায়ের ছায়া হারানো একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় অভাব কোনো বস্তু দিয়ে পূরণ করা যায় না। তাদের প্রয়োজন ভালোবাসা, নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং সমাজের সহমর্মিতা। কারণ আজ যারা এতিম, তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে।
চরবিনোদপুরের বাতাসে আজও হয়তো ভেসে আসে সেই ছোট্ট শিক্ষার্থীদের হাসির শব্দ। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর শূন্যতা। একজন শিক্ষকের চোখে সেই শূন্যতার ছবিই ধরা পড়েছে তাঁর আবেগঘন লেখায়—যেখানে স্মৃতি আছে, ভালোবাসা আছে, আর আছে হারিয়ে ফেলা এক মায়ের জন্য অবিরাম প্রার্থনা।
“হে আল্লাহ, এই এতিম শিশুদের ধৈর্য দিন, তাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করুন এবং তাদের মায়ের জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি