৫ আগস্ট ২০২৪ সাল। সময় তখন দুপুর ১২টা। রাস্তায় বের হয়ে দেখি আওয়ামী লীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে টহল দিচ্ছে। কিছুক্ষণ পর চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ল—শেখ হাসিনা নাকি পদত্যাগ করবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দেখি আওয়ামী লীগের কর্মীদের আর রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দৌড়ে টেলিভিশনের সামনে গিয়ে দেখি স্ক্রলে প্রচার হচ্ছে—দুপুর ২টায় সেনাবাহিনীর প্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
তখনই বুঝতে পারলাম, হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। কিছুক্ষণ পর টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে দেখা গেল গণভবনে মানুষের ঢল। এরপর দেখা যায়, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে চলে যাচ্ছেন।
এরপরই সারা দেশে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস, উদ্দীপনা ও বাঁধভাঙা আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। যেন এক ভিন্ন রকম বিজয়ের অনুভূতি। বিজয়ের সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।
নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বাংলাদেশের অলিগলি, সড়ক-মহাসড়ক—সবখানেই মানুষের ঢল নামে। সবাই নিজেদের মতো করে আনন্দ প্রকাশ করছিল, মিছিল করছিল এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল।
ইন্টারনেট বন্ধ করে ছাত্রদের ওপর যে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, তার পর শেখ হাসিনার বিদায়ের খবর শুনে আনন্দ-উল্লাসের সেই মুহূর্ত উপভোগ করতে গিয়ে অনেকের চোখে অশ্রু নেমে এসেছিল।
সেদিন এমন খুব কম মানুষই ছিল, যারা সেই আনন্দের অনুভূতি ভাগ করে নেয়নি। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সেই চিত্র ছিল ভিন্ন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের এই ঘটনাকে অনেকেই স্বৈরশাসনের অবসান ও গণঅভ্যুত্থানের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে মনে রাখবেন। ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।