বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, জ্বালানি খাতের সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (USBBC) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকার শুল্ক-সুবিধাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে এক ছাতার নিচে এনে কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে এ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধাগুলো সুসংগঠিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি দেশের সার্বিক নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাদ্যশস্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও সরকারি পর্যায়ের (G2G) সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা, স্মার্ট পুলিশিংয়ের আওতায় ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প, সীমান্ত নিরাপত্তায় ‘ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট’ এবং ই-ভিসা চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান কোম্পানি কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বর্তমানে এসব কোম্পানি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অতুল কেশপ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের টেকনিক্যাল ও ম্যানেজারিয়াল সক্ষমতা উন্নয়ন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং কর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত সহায়তা দিতে পারে এবং সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করেন।
বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশপের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।