জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজে গোপনীয় দর ফাঁস, সিন্ডিকেটিং এবং প্রায় ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুদক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এনফোর্সমেন্ট টিম এনসিটিবি থেকে প্রাথমিক প্রাক্কলনের কপি, দাপ্তরিক মূল্য তালিকা, ৪২৩তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। সংগৃহীত নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
এদিকে একই দিনে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় জমি নামজারি নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগেও অভিযান চালিয়েছে দুদক।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী থেকে রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট টিম সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে সরেজমিনে অফিস পরিদর্শন করে এবং পরে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে।
দুদক জানায়, সার্বিক পর্যালোচনায় অভিযোগসংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতার জমির রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার নামে ব্যাংক হিসাব ও নগদের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে গ্রহণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযানকালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সিটিজেন চার্টার না থাকার বিষয়টিও এনফোর্সমেন্ট টিমের নজরে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অফিসের সামনে দৃশ্যমান স্থানে সিটিজেন চার্টার সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম জানিয়েছে, উভয় অভিযানে সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।