ঢাকা   ০১:৩২:১৭ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হোমনায় সংযোগহীন পাকা ঘাট, ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, October 22, 2026,
  • 6 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ডেস্ক রিপোর্ট : কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাটসংলগ্ন তিতাস নদীর পাড়ে নির্মিত একটি পাকা ঘাট দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। মূল সড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকায় ঘাটটি ব্যবহার করতে অসুবিধায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘাটটি ব্যবহারের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংযোগপথের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র : কুমিল্লার জমিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে তিতাস নদীর তীরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। রামকৃষ্ণপুর রাম কানাই রায়ের বাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন, স্থানীয় বাসিন্দাদের গোসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে ঘাটটি অবস্থিত হওয়ায় সড়ক থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগপথ নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘাটটির অবস্থান ও সংযোগপথ নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমা ওঠানো-নামানোর পর্যাপ্ত জায়গা রাখার জন্য সড়ক থেকে কিছুটা দূরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঝের ফাঁকা জায়গাটি স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে সংযোগ তৈরি করবেন বলে কথা ছিল। তবে পরে সেই কাজ করা হয়নি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে মণ্ডপ কমিটির এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, ঘাটটি প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি বলে তাঁর ধারণা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘাটের সিঁড়িও বেশ খাড়া। সড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাটি ভরাটের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল, তবে তা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘাটটি নির্মাণে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। ওই এলাকার শুভ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি করেছিলেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। তবে প্রকল্পটির প্যাকেজ, দরপত্র, বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নথিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকল্পটির অনুমোদিত নকশা, কাজের চুক্তি এবং ব্যয়ের বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবযোগদানকৃত হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। বিস্তারিত তথ্য না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।”
ঘাটটি নির্মাণের পরও কেন সড়কের সঙ্গে সংযোগপথ তৈরি হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই করে নির্মাণকাজের পরিকল্পনা, ব্যয় ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঘাটটি ব্যবহারোপযোগী হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জনেও সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি