ঢাকা   ০৫:১৯:১৭ পিএম, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পোন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 28, 2026,
  • 4 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা বিশ্বমানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়ায় জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছে। সেই থেকে জাপান আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজার ১৮০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের। আমাদের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছর। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আর ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর ভর করে ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রসারিত করতে চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ)’-এর কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এই ধরনের চুক্তি। আমাদের অংশীদারত্ব শুরু হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার। বিপরীতে, জাপান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য।

তারেক রহমান বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে সরকার।’ এ উদ্যোগে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

রেল ও যোগাযোগ খাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে দেশব্যাপী উঁচু পথে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি মান অনুযায়ী শিল্প স্থাপন করা হচ্ছে। সুমিতোমো করপোরেশন অঞ্চলটি উন্নয়নের কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, শুল্ক ছাড় ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সরকার কাজ করছে।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি