ঢাকা   ০৩:০৫:১৪ পিএম, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নারীরাও অপরিহার্য: শামা ওবায়েদ

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, November 7, 2026,
  • 0 Time View
  • ১২ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-২ ও সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পেছনে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। উন্নয়ন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, যেখানে চট্টগ্রাম থেকে রংপুর, যশোর থেকে ফরিদপুর, সব অঞ্চলের নারীরা সমান সুযোগ পাবেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) প্রাঙ্গণে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ও পণ্য মেলা-২০২৬-এর তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নারী উদ্যোক্তার অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ হবে আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগানে ৫ নভেম্বর ৬০ টি স্টল নিয়ে শুরু হয় এ সামিট।

শামা ওবায়েদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ কোনো সুবিধা বা অগ্রাধিকার প্রয়োজন নেই। তারা অন্য উদ্যোক্তাদের মতো নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও সমান সুযোগ চান। এমন একটি সময় আসা উচিত, যখন উদ্যোক্তার আগে ‘নারী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে না। নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হলেই প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।

তিনি বলেন, যশোরের কোনো নারী নকশিকাঁথা তৈরি করেন, রংপুরের কোনো নারী শতরঞ্জি বানান কিংবা চট্টগ্রামের কোনো তরুণী অনলাইনে খাবারের ব্যবসা করেন। কিন্তু তাদের অনেকেই পণ্য বাজারজাতকরণ, নতুন বাজার খুঁজে পাওয়া, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে নিজেদের উদ্যোগ বড় করতে পারছেন না। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনকে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের সম্ভাব্য বাজার ও চাহিদা খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে কোন ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাজারের সংযোগ তৈরিতে মিশনগুলো কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি কূটনীতিক, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি জায়গায় তাদের পণ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে চান তিনি। এসএমই ফাউন্ডেশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যোগাযোগ করলে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র, নাটক, নাচ, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী ও গহনাসহ বিভিন্ন পণ্য এ অর্থনীতির অংশ। এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদান অনেক বেশি। সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মেয়েদের প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সরকার কাজ করছে। নারী শিক্ষার প্রসার ও যথাযথ সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারীরা সব ক্ষেত্রেই আরও ভালো করবেন।

নিজেকে একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকের পেছনে সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প রয়েছে। এসব গল্প দেশের ১৭ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্মের মেয়েরা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলোতে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কী ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন বাজার খোঁজা, অর্থায়ন, ব্যাংক ঋণ সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশসহ যেকোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাদের সমস্যা সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে সামিট ও পণ্য মেলার আয়োজনের জন্য আয়োজক, এসএমই ফাউন্ডেশন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা বিভাগ থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননা পাওয়া সাগুফতা সুলতানা বলেন, নারীরা নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজের অবস্থান শক্ত করতে নিরলস চেষ্টা করছেন। এ ধরনের স্বীকৃতি উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং কাজের অগ্রযাত্রায় অনুপ্রেরণা জোগায়।

তিনি বলেন, তার নিজেরও দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প রয়েছে। চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হওয়ার মানসিকতা থেকেই তিনি নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও স্বদেশি উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় উদ্যোক্তা উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।

সাগুফতা সুলতানা বলেন, দেশে উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়লেও তাদের মান ও দক্ষতা উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেক নারী মাত্র তিন থেকে সাত দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা, যেমন পণ্যের সঠিক মাপ নেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য কারিগরি বিষয় শেখার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তিনি নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দীর্ঘমেয়াদি করার পাশাপাশি একজন পরিপূর্ণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সামিট আয়োজন করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির অনুরোধ জানান।

এর আগে জাতীয় এসএমই নারী উদ্যোক্তা সামিট ২০২৬-এ ৮ জন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ৮ জন নারী উদ্যোক্তা হলেন: সাগুফতা সুলতানা-ঢাকা বিভাগ, মঞ্জুলিকা চাকমা-চট্টগ্রাম বিভাগ, শান্তনা-সিলেট বিভাগ, হেনা খাতুন-ময়মনসিংহ বিভাগ, আফরোজা আজিজ মুন্নি-রাজশাহী বিভাগ, উম্মে কুলসুম পপি-রংপুর বিভাগ, বিলকিস আহমেদ লিলি-বরিশাল বিভাগ ও মরিয়ম নার্গিস-খুলনা বিভাগ।

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয় ও চেয়ারপার্সন, এসএমই ফাউন্ডেশনের সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি