ঢাকা   ০৪:১৩:৩৫ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া ট্রেনের টিকিট কিনলে দায় নেবে না রেলওয়ে হামের উপসর্গে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২১৩ ‘নিজের বাড়ির জানালা সংস্কারে এভাবে অবহেলা করতেন?’, ক্ষুব্ধ রেলমন্ত্রী সচিব হলেন ৩ নারী হাই কমিশনার ও রাষ্ট্রদূত দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

মেঘনার সন্তান, কেন্দ্রে তাঁর রাজনীতি

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Tuesday, January 6, 2026,
  • 893 Time View

রাজনীতির মানচিত্রে অনেক নাম আসে, আবার হারিয়েও যায়। কিন্তু কিছু নাম থাকে, যারা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে কেন্দ্রের রাজনীতিতে জায়গা করে নেয়—নিজের ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠার শক্তিতে। কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন ঠিক তেমনই এক নাম। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা গ্রামের সন্তান হলেও তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ নয় কোনো উপজেলা বা জেলার গণ্ডিতে। তিনি রাজনীতি করেন কেন্দ্রে—চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও সংগঠনের স্তম্ভে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাঠের কর্মী থেকে কেন্দ্রের সংগঠক—এই উত্তরণের পথ ছিল কঠিন, ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তবু তিনি থামেননি। দল যখন সংকটে, যখন দমন-পীড়নে অনেকেই পিছু হটেছেন, তখন মামুন ছিলেন সংগঠনের ভরকেন্দ্রে—নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর করমর্দনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই ছবি শুধু সৌজন্য সাক্ষাতের প্রতীক নয়; এটি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদানের এক নীরব স্বীকৃতি। যারা রাজনীতির গভীরতা বোঝেন, তারা জানেন—কেন্দ্রের নেতৃত্ব হঠাৎ কাউকে কাছে টানে না। এখানে জায়গা পেতে হয় সময়, ত্যাগ, আস্থা আর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। মামুন সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
কেন্দ্রে তাঁর অবদান বহুমাত্রিক। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দলীয় যোগাযোগ, কর্মসূচি সমন্বয়, সাংগঠনিক তথ্যপ্রবাহ এবং তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সেতুবন্ধন তৈরিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে মাঠের খবর দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানো, কেন্দ্রের নির্দেশ সঠিকভাবে তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া—এই দ্বিমুখী দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। অনেক সময় এই কাজগুলো দৃশ্যমান হয় না, কিন্তু দল টিকে থাকে এই অদৃশ্য শ্রমের ওপর ভর করেই।
তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দনের মুহূর্তটি তাই আবেগের পাশাপাশি বার্তাবহ। এটি প্রমাণ করে, কেন্দ্র জানে কে কোথায় কীভাবে কাজ করছে। ত্যাগী কর্মীদের অবদান এখানে হিসাবের বাইরে থাকে না। এই করমর্দন মেঘনার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি সারাদেশের তৃণমূল স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তারা দেখছে—নিজের জায়গা থেকে সততার সঙ্গে কাজ করলে কেন্দ্রের দরজাও খুলে যায়।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের রাজনীতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কর্মী গড়া। কেন্দ্রের রাজনীতিতে থেকেও তিনি তৃণমূলকে ভুলে যাননি। মেঘনাসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য তরুণকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শুধু মিছিল-মিটিং নয়, তাদের শিখিয়েছেন শৃঙ্খলা, দলীয় আদর্শ ও ধৈর্য। তাঁর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দল অনেক জায়গায় সংগঠিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা তিনি তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন—যাতে তারা বুঝতে পারে, রাজনীতি কেবল স্লোগানের নয়, এটি দায়িত্বেরও।
কেন্দ্রের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান মানে শুধু পদ নয়, এটি আস্থার জায়গা। আন্দোলনের কঠিন সময়ে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন কেন্দ্রে। এতে করে নেতৃত্ব বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে—এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নীরব এই অবদানই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।মেঘনার মানুষ গর্ব করে বলেন “আমাদের সন্তান কেন্দ্রে রাজনীতি করে।” এই গর্ব আবেগের নয়, অর্জনের। কারণ মামুন নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন কাজের মাধ্যমে। তাঁর এই করমর্দনের ছবি মেঘনার রাজনীতিতে নতুন করে আশার আলো জ্বেলেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করছেন, এমন নেতৃত্ব থাকলে তাদের কণ্ঠ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে।এই প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বন্দনার জন্য নয়; এটি একটি বাস্তবতার দলিল। যেখানে দেখা যায় একজন নেতা কীভাবে কেন্দ্রের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে করমর্দন সেই পথচলার এক দৃশ্যমান চিহ্ন। সামনে আরও লড়াই, আরও দায়িত্ব অপেক্ষা করছে। তবে এটুকু নিশ্চিত—আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজনীতি করেন কেন্দ্রে, কিন্তু তাঁর শিকড় প্রোথিত মেঘনার মাটিতেই। আর এই দুইয়ের সেতুবন্ধনই তাঁকে করেছে আলাদা। একটি ছবি হাজারো ত্যাগী কর্মীরা অনুপ্রেরণা পেয়ে তারেক রহমানকে কর্মী বান্ধব নেতা তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। সৌজন্য সাক্ষাতে হাসিমুখে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি