ঢাকা   ০৩:৩৮:৩৬ এএম, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাখাল রাজা জিয়াউর রহমানকে নিভৃতে লালন করে সাধারণ মানুষ

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Monday, January 19, 2026,
  • 464 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা ক্ষমতার আলো-ঝলমলে মঞ্চের বাইরেও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তিনি কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, ছিলেন গ্রামবাংলার মাটি-ঘেঁষা এক “রাখাল রাজা” যাঁকে সাধারণ মানুষ নিভৃতে লালন করে, স্মরণ করে এবং ভালোবাসে। তাঁর ৯০তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে এই ভালোবাসার উৎস ও গভীরতা নতুন করে অনুধাবন করা জরুরি।জিয়াউর রহমানের জীবন শুরু হয়েছিল এক সাধারণ পরিবারে। শৈশব-কৈশোরে গ্রামীণ পরিবেশ, মানুষের দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রাম তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আজীবন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকতে শিখিয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও তিনি নিজেকে কখনো জনগণ থেকে আলাদা করেননি। বরং গ্রাম, মাঠ, হাট-বাজার ছিল তাঁর রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু।মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। স্বাধীনতার ঘোষণা, সম্মুখসমরে নেতৃত্ব—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন দৃঢ়, সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী। কিন্তু যুদ্ধশেষে তিনি কেবল একজন সেনানায়ক হিসেবেই থেমে থাকেননি; তিনি হয়ে উঠেছিলেন রাষ্ট্রগঠনের কারিগর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন সময়ে তাঁর বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত ও পরিশ্রমী নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করে।রাষ্ট্রপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণা তুলে ধরে দেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের নতুন ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, এ দেশের শক্তি শহরের অট্টালিকায় নয়, বরং গ্রামবাংলার মানুষের ঘামে ও পরিশ্রমে। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের উৎপাদনশীলতাকে তিনি রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর নীতি ও কর্মসূচিতে গ্রামের মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছিল।জিয়াউর রহমানের আরেকটি বড় পরিচয়—তিনি ছিলেন সৎ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণত্ব, রাষ্ট্রীয় কাজে দৃঢ়তা তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বিলাসিতা কিংবা আত্মকেন্দ্রিক রাজনীতি তাঁর চরিত্রে স্থান পায়নি। এ কারণেই সাধারণ মানুষ তাঁকে নিভৃতে লালন করে কোনো জোরালো প্রচারণা ছাড়াই, হৃদয়ের গভীরে।আজ তাঁর ৯০তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি, সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রামগঞ্জে, চায়ের দোকানে, কৃষকের উঠোনে এখনো তাঁর নাম উচ্চারিত হয় সম্মানের সঙ্গে। এটি কোনো দলীয় স্মরণ নয়; এটি মানুষের স্মৃতি, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রকাশ। তিনি হয়ে আছেন এক রাখাল রাজা যিনি রাজপ্রাসাদে নয়, মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করেন।শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন আমাদের শেখায় নেতৃত্ব মানে দূরত্ব নয়, বরং মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকা। তাঁর আদর্শ, কর্ম ও সাধারণ মানুষের প্রতি অগাধ আস্থা আজও প্রাসঙ্গিক। ৯০তম জন্মদিনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা আশা করতে পারি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর জীবন থেকে দেশপ্রেম, সাহস ও মানবিকতার শিক্ষা গ্রহণ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি