• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

মেঘনায় কাবিটা প্রকল্পের সভাপতিই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুললেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে

বিপ্লব সিকদার / ৩৩৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির নাম ‘লুটেরচর হাইওয়ে সড়ক হইতে ফৈজুদ্দিন মৌলভীর বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুনর্নির্মাণ’। প্রকল্পটির দৈর্ঘ্য ২৫৬ মিটার এবং বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি পরিদর্শন করে মান যাচাই করা হয়। কাজ সন্তোষজনক হওয়ায় বিল ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং সভাপতির দস্তখতসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে বিল প্রদান করা হয়।তবে এর বিপরীতে ফেসবুক পোস্টে ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ও সচিব মেম্বারদের টাকা আত্মসাত করেছেন। তার এই অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে লুটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক হাউদের বলেন, “এই প্রকল্পের সভাপতি নিজেই আব্দুল গাফফার। উপজেলা দপ্তর থেকে কাজ পরিদর্শনের পর সভাপতির দস্তখতেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এখানে আমার বা সচিবের টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।”অন্যদিকে প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল গাফফার দাবি করেন, “চেয়ারম্যান ও সচিব নিয়মিতভাবেই আমার কাছে দস্তখত নিয়ে থাকেন। আমি সরল বিশ্বাসে দস্তখত দিয়েছি। কিন্তু পরে উপজেলা অফিসে গিয়ে জানতে পারি, বিল ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান ও সচিব উত্তোলন করে নিয়েছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.ফখরউদ্দিন   জানান, “আমরা কাজ পরিদর্শন করেছি এবং সভাপতির দস্তখতসহ সব কাগজ ঠিক থাকায় বিল দেওয়া হয়েছে। বিল পাওয়ার পর এমন অভিযোগ কেন উঠছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিকস চেতন নাগরিক বলেন
চেয়ারম্যান, সচিব ও প্রকল্প সভাপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রকৃত সত্য আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। সভাপতির স্বাক্ষরে বিল ছাড় হলেও তিনি অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ করায় প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও স্বাক্ষর ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদঘাটন করা না হলে ভবিষ্যতে কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েই আস্থার সংকট তৈরি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন