ঢাকা   ০৩:১৫:১৫ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

মেঘনার জমিদার বাড়ি প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ সময়ের দাবি

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Thursday, February 26, 2026,
  • 448 Time View

গোবিন্দপুর গ্রামের প্রায় ৯৮ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি—‘গোবিন্দপুর পোড়া বাড়ি’—আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘পোড়া বাড়ি’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঐতিহাসিকভাবে এটি ‘প্যারী মোহন সাহা বাড়ি’ বা গোবিন্দপুর জমিদার বাড়ি হিসেবেই পরিচিত।


ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী স্থাপনা
জানা যায়, বাড়িটি নির্মিত হয় ১ চৈত্র, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে। সে সময় সাহা জমিদার পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। দৃষ্টিনন্দন নকশা, পুরু ইটের দেয়াল, খিলান দরজা ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এ বাড়িটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সময়ের বিবর্তনে ভবনটির অনেকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো তা অতীত ঐতিহ্যের জানান দেয়।


অবস্থান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলা-এর গোবিন্দপুর ইউনিয়নে, গোবিন্দপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। একসময় জমিদার পরিবারের আবাসস্থল হলেও বর্তমানে  অবহেলা ও অযত্নে ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন জমিদার বাড়ির ভবনগুলো , যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রত্নমূল্যসম্পন্ন ধীরে ধীরে  ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি
গ্রামবাসীর মতে, এটি শুধু একটি পুরোনো বাড়ি নয়—এটি তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। অনেকেই চান, প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে বাড়িটির সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। কেউ কেউ এটিকে সরকারি তালিকাভুক্ত প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণারও দাবি তুলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এটি পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানে রূপ নিতে পারে।


সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, সংস্কৃতি বিষয়ক কর্তৃপক্ষ এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা গেলে এটি কুমিল্লা অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত হতে পারে।
সময়ের দাবি
ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই গোবিন্দপুর পোড়া বাড়ি সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি—ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ রক্ষার অঙ্গীকার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি