দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই সাধারণ মানুষের প্রথম প্রশ্ন থাকে সত্যটা কী? আর সেই সত্য জানার অন্যতম উৎস হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জমি নিবন্ধন, দলিল সংরক্ষণ ও লেনদেনের মতো সংবেদনশীল কাজে জড়িত থাকায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অনেক সময় তারা তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা জনমনে সন্দেহের জন্ম দেয়।
বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে মূলত প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য। এই আইনের মাধ্যমে যে কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক সরকারি দপ্তরের কাছে তথ্য চাইতে পারেন। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসও এর বাইরে নয়। অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তথ্য চাইলে তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য পেতে হয়রানি, বিলম্ব বা অজুহাতের সম্মুখীন হতে হয়।দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, তথ্য গোপন করা মানেই সন্দেহ আরও গভীর করা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের জানার অধিকার অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। যদি কোনো সাব-রেজিস্ট্রার নিজের দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ না থাকেন, তাহলে সেই দপ্তরের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়। ফলে শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিযোগ উঠলে কমিশন তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য দেওয়ার কোনো বিকল্প থাকে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই যদি তথ্য সহজলভ্য হতো, তাহলে হয়তো অনেক দুর্নীতি আগেই প্রকাশ পেত এবং প্রতিরোধ করা যেত।সাংবাদিকদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তারা সমাজের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেন। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি সামনে আনতে তারা তথ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তথ্য দিতে অনীহা দেখান, তাহলে সত্য উদঘাটন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নৈতিক দিক থেকেও একজন সাব-রেজিস্ট্রারের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সহযোগিতা করা।