ঢাকা   ০২:১৮:২১ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রম্য: বিদ্যুৎহীন আলোর দেশে জুন ক্লোজিং

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : Wednesday, June 17, 2026,
  • 173 Time View

মেঘনা উপজেলার মানুষ এখন এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে বসবাস করছে। এখানে বিদ্যুৎ একটি কল্পকাহিনীর চরিত্র। মাঝে মাঝে তার আগমন ঘটে, আবার হঠাৎ করেই সে হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি বিষয় অত্যন্ত বাস্তব, অত্যন্ত দৃশ্যমান এবং অত্যন্ত নিয়মিত—বিদ্যুৎ বিল।
সম্প্রতি কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ সম্মানিত গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, জুন ক্লোজিং উপলক্ষে সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিটি পড়ার পর মেঘনার সাধারণ মানুষ কিছুটা বিস্মিত, কিছুটা হতবাক এবং কিছুটা হাস্যরসের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ যে এলাকায় দিনের বড় একটি অংশ লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে কাটে, সেখানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি অনেকের কাছেই যেন এক ধরনের রসিকতা।গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি মজা করে বলছিলেন, “আগে বিদ্যুৎ যেত, এখন মাঝে মাঝে আসে। তাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে হয়তো পার্থক্যটা বোঝা কঠিন হবে।”
অবশ্য বিদ্যুৎ বিভাগেরও যুক্তি আছে। বিদ্যুৎ থাকুক আর না থাকুক, উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ—সবকিছুরই খরচ আছে। তাই বিল আদায় করতে হবে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকের প্রশ্নও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা জানতে চান, দিনের পর দিন যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলতে থাকে, তখন তাদের দুর্ভোগের হিসাব কে রাখে?
মেঘনার অনেক এলাকায় গরমের রাতে শিশুরা ঘুমাতে পারে না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হয়। পানির মোটর চলে না। মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য মানুষকে দোকানে ছুটতে হয়। কিন্তু এসব দুর্ভোগের জন্য এখনো কোনো “ক্ষতিপূরণ ক্লোজিং” চালু হয়নি।মজার ব্যাপার হলো, বিদ্যুতের সরবরাহ অনিশ্চিত হলেও বিলের সরবরাহ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। মাস শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকের মোবাইলে বার্তা চলে আসে। বিলের ক্ষেত্রে কোনো লোডশেডিং নেই, কোনো ভোল্টেজ ড্রপ নেই, কোনো ট্রিপিং নেই। এই সেবার ধারাবাহিকতা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।জুন ক্লোজিং বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য একটি পরিচিত শব্দ। অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায় ও হিসাব-নিকাশে বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন হলো—জুন ক্লোজিং কি শুধু হিসাবের খাতায়, নাকি সেবার মানেও প্রতিফলিত হবে?যে গ্রাহক নিয়মিত বিল পরিশোধ করেন, তিনি শুধু বিদ্যুতের ক্রেতা নন; তিনি একজন নাগরিক, একজন অংশীদার। তারও অধিকার আছে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার। দায়িত্ব যেমন গ্রাহকের, তেমনি দায়বদ্ধতাও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের।মেঘনার মানুষ বিল দিতে আপত্তি করেন না। তারা বিদ্যুতের মূল্য বোঝেন। কিন্তু তারা এমন এক পরিস্থিতিতে পড়েছেন, যেখানে অনেক সময় মনে হয় তারা বিদ্যুতের জন্য নয়, বিদ্যুতের সম্ভাবনার জন্য বিল দিচ্ছেন।তাই জুন ক্লোজিংয়ের এই সময়ে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একটি বিনীত আবেদন থাকতে পারে বিল আদায়ের পাশাপাশি লোডশেডিং কমানোর জন্যও যদি সমান উৎসাহ দেখা যেত, তাহলে হয়তো অন্ধকারের মধ্যেও কিছুটা আলো দেখা যেত। কারণ নাগরিকের কাছে সবচেয়ে বড় ক্লোজিং হলো না অর্থবছরের হিসাব; সবচেয়ে বড় ক্লোজিং হলো দিনের শেষে ঘরে ফিরে একটি জ্বলন্ত বাতি দেখতে পাওয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি