ঢাকা   ০৩:১৬:০১ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

শিশুমৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত হয়নি, উঠছে প্রশ্ন

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Thursday, June 18, 2026,
  • 225 Time View

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় অটোরিকশার ধাক্কায় ছয় বছর বয়সী শিশু আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যুর মতো ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না হওয়া এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত ১৬ জুন দুপুরে উপজেলার হরিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ হরিপুর গ্রামের মো. রবিকুল ইসলামের ছেলে এবং এলাকার বাসিন্দা জিলানী মিস্ত্রির নাতি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির সামনে খেলাধুলার সময় দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় শিশু আব্দুল্লাহ। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
তবে দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ময়নাতদন্ত না হওয়া নিয়ে। সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “যেহেতু কেউ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আসেনি, তাই আমরা জেনেও ময়নাতদন্ত করিনি।”
ওসির এমন বক্তব্যের পর আইন সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগকারী না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিহত ব্যক্তি যখন একজন শিশু, তখন বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে একাধিক স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুর পরিবারকে প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার দিকে নেওয়া হয় এবং পরে আর কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তবে এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি কোনো সমঝোতা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কি আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে? আর যদি না করে থাকে, তাহলে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে কেন ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলো না?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত দাফনের কারণে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শুধু মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া, ক্ষতিপূরণ দাবি এবং দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং ক্ষতিপূরণের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মনে যে প্রশ্নের জন্ম হয়েছে, তার উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি