ঢাকা   ০৪:১৮:৩৮ পিএম, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাসসের পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান আবদুল হাই শিকদার নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতি-শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ থাকবে জন্মদিনে গ্ল্যামারাস লুকে অপু বিশ্বাস অবৈধ অভিবাসন রোধে ইইউর সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত বিএনপি : রিজভী ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে ৪ জন গ্রেপ্তার, ছোরা ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার জাল ভিসায় ইতালি পাঠিয়ে ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ চট্টগ্রাম রেঞ্জে গ্রেপ্তার ১২৩৫, কিশোর গ্যাংয়ে আটক ৭৯৪

কুমিল্লায় একদিনে ৩৯ মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৬৫

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, August 22, 2026,
  • 83 Time View

 কুমিল্লা সংবাদদাতা : 

কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একদিনে ৩৯টি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার ১৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীসহ মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা পুলিশের সব থানার উদ্যোগে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির দিকনির্দেশনায় এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জেলার কোন কোন থানা ও এলাকায় কত পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—তা পৃথকভাবে জানানো হয়নি।
একদিনে বিপুল মাদক উদ্ধার
একদিনের অভিযানে ১০ হাজার ১৪৫টি ইয়াবা ও ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা কুমিল্লায় মাদকবিরোধী পুলিশের অভিযানের ব্যাপকতার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে ইয়াবার বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। এ জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে উদ্ধার হওয়া মাদক কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে কুমিল্লায় প্রবেশ করেছে কিংবা এর পেছনে কোনো বড় সরবরাহকারী চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
মামলা ও সাজা
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ঘটনায় মোবাইল কোর্ট ও বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচার (Summary Trial)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য, শুধু মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না; মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শুধু অভিযানেই কি মাদক নির্মূল সম্ভব?
কুমিল্লায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও মাদক নির্মূলের বিষয়টি কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয় বলে মনে করছে জেলা পুলিশ। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি মাদকের চাহিদা কমানো, তরুণদের সচেতন করা এবং সামাজিকভাবে মাদককে প্রতিহত করাও জরুরি।
পুলিশের মতে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী বা সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।
জিরো টলারেন্স নীতি
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের ভাষ্য, একটি মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠলেই দীর্ঘমেয়াদে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি