https://bindubanglatv.com/
পত্নীতলা উপজেলা প্রতিনিধি: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখার সংগ্রাম যখন নিরন্তর, ঠিক তখনই ব্যক্তি আক্রোশের বলি হলো জাতীয় সম্পদ—ফসলের ক্ষেত।
নওগাঁর পত্নীতলায় বর্গাচাষকৃত ধানের ক্ষেতে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও কীটনাশক প্রয়োগ করে বিপুল পরিমাণের রোপণকৃত ধান নষ্ট করার এক নৃশংস অভিযোগ উঠেছে। কৃষিবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিস্বার্থ বা বিরোধের জেরে এভাবে ফসল ধ্বংস করা কেবল ব্যক্তি কৃষকের আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি কুঠারঘাত।
ঘটনাটি ঘটেছে পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকগৌরী মৌজায়। জমিটির বর্গাচাষী মো. সোহেল রানা (রানু) জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ২ একর ৯ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে পরম যত্নে চাষাবাদ করে আসতেছেন। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে গত ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে সেই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে রোপণকৃত ধানে বিষাক্ত কেমিক্যাল ছিটানোর ঘটনা ঘটেছে । পরদিন সকালে জমিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের সবুজ ধানক্ষেত মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি শস্যদানা আমাদের জাতীয় সম্পদ। এভাবে জমি ধ্বংসের ফলে কেবল যে তাৎক্ষণিক খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয় তা নয়; অতিরিক্ত ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রয়োগের কারণে মাটির উর্বরতা শক্তি এবং চারপাশের পরিবেশও দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্তগণ আকুল কণ্ঠে আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের গায়ের ঘাম ঝরানো ফসল এভাবে নষ্ট করা মানে সরাসরি জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করা। আমরা এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষ এ বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করে জানায়, “এভাবে ফসলের ক্ষতি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরাও গরিব কৃষক, দিন এনে দিন খাই; তাই ফসলের মায়া আমরাও বুঝি। কিন্তু এই জমিতে আমাদেরও ন্যায্য অংশ রয়েছে। এককভাবে বা গায়ের জোরে তা ভোগদখলের চেষ্টা অনুচিত। আদালতে মামলা চলমান রয়েছে; আমরা চাই আইনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট সমাধান আসুক এবং তারপরই উপযুক্ত পক্ষ তা ভোগদখল করুক।”
এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় পত্নীতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিয়ামুল হক বলেন, “অভিযোগ হস্তগত হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”