ঢাকা   ১২:৪৩:১১ পিএম, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফলের চড়া দামে ক্রেতার নাভিশ্বাস

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 23, 2026,
  • 2 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

পরিবার নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছেন আব্দুল বাতেন। মিষ্টিসহ আরও কিছু খাবার নিয়েছেন সঙ্গে। ভাবছেন কম হয়ে গেল কি না। দোকানে গেলেন ফল কিনতে। কিন্তু ফলের চড়া দাম শুনে কোনো ফল না কিনেই চলে গেলেন তিনি।

এটি ঢাকার দক্ষিণ মুগদা এলাকার একটি ফলের দোকান থেকে এক ক্রেতার দাম শুনে না কিনে চলে যাওয়ার চিত্র। সেখানে বাতেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘যে ফলেই হাত দেই কয় ৪০০ টাকা। দুই কেজি ফল নিলে এক হাজার টাকা নাই। মানুষ কেমনে কিনবে কন। ফল না নিয়া গেলে কিছু হবে না।’

আমদানি করা ফলের মধ্যে আপেল, কমলা, মাল্টা, ডালিম ও আঙুরের চাহিদা রয়েছে। নিজেদের খাওয়া, রোগীর পথ্য বা রোগী দেখতে যাওয়া কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও কেনাকাটায় ফল রাখতে হয়। কাটছাঁট করতে গেলেও অন্তত দুই থেকে তিন কেজি ফল কেনাও যেন বেমানান। তবে বাজারে ফলের যে চড়া দাম, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে এটা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও মানভেদে এক কেজি ডালিম ও বেদানা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫৫০ টাকায়। কমলা বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৫০ টাকায়। আপেলের কেজি ৩৮০-৫২০ টাকা। আঙুরের কেজি ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা। মাল্টার কেজি ৩৮০-৪০০ টাকা। নাশপাতির কেজি ৩২০-৩৪০ টাকা। তরমুজের কেজি ৭০-১০০ টাকা। মানভেদে ড্রাগনের কেজি ১৭০-১৯০ টাকা।

বাজারে বিক্রি হওয়া ফলের আকার ও কেজিপ্রতি দাম হিসাব করলে দেখা যায়, চারটি আমদানি করা বেদানায় এক কেজি হলে প্রতিটির দাম পড়ে ১১৩ থেকে ১৩৮ টাকা। পাঁচটি আমদানি করা মাল্টায় এক কেজি হলে প্রতিটির দাম পড়ে ৭৬ থেকে ৮০ টাকা। এক কেজিতে সবুজ আপেল হয় প্রায় নয়টি। প্রতিটির দাম পড়ে প্রায় ৪৪ থেকে ৫০ টাকা। লাল আপেল আট থেকে নয়টিতে এক কেজি হওয়ায় প্রতিটির দাম ৪২ থেকে ৫৬ টাকা।

সাত থেকে আটটি কমলায় এক কেজি হলে প্রতিটির দাম পড়ে ৫৬ থেকে ৬৪ টাকা। আর প্রতিকেজি নাশপাতিতে থাকে তিন থেকে চারটি, প্রতিটির দাম ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।

দেশীয় ফল যেমন- পাকা পেঁপে, পেয়ারা, কলা, জাম্বুরা, আমড়া, সবুজ মাল্টার দামও কম নয়। মানভেদে পাকা পেঁপের কেজি ৫০-১২০ টাকা। কলা প্রতি ডজন ৮০-১৫০ টাকা। পেয়ারার কেজি ৮০-১০০টাকা। জাম্বুরা প্রতি পিস ৫০-১০০ টাকা। সবুজ মাল্টার কেজি ৮০-১২০ টাকা, এবং আমড়ার কেজি ৫০-৭০ টাকা।

এ ছাড়া, খেজুরের দামও প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে বাংলা খেজুর ২৫০ টাকা এবং মেডজুল খেজুর ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফলের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাবুল মিয়া বলেন, চারদিকে জ্বর, ডেঙ্গু। ডাক্তার ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় এমন ফল খেতে দেয়। ফলের মধ্যে কমলা, মাল্টায় ভিটামিন ‘সি’ আছে। কিন্তু দাম তো সাধারণ মানুষের নাগালে নেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে ফলের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার কারণে দাম বেড়ে গেছে। আমদানির শুল্ক এবং ক্যারেটে বেশি নষ্ট ফল থাকলে দাম বেড়ে যায়।

ফল বিক্রেতা আব্দুর সাত্তার বলেন, ফলের চাহিদা বাড়ছে, দামও বাড়ছে। ভ্যাট বেশি দিতে হয়। এক কেজি ফলে ১২০ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। মানুষ মনে করে দাম বাড়লে আমাদের লাভ বেশি। ১০ বছর আগে ফল বিক্রি করে কেজিতে যে লাভ করতাম এখনো লাভ সেরকমই, শুধু জিনিসের দাম বেড়েছে।

আরেক ফল বিক্রেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, ডেঙ্গুর কারণে মাল্টাসহ আরও কিছু ফলের চাহিদা বেশি, দামও বেশি। আমরা বাদামতলী থেকে ফল আনি। প্রায়ই দেখা যায়, ক্যারেটে অনেক নষ্ট ফল থাকে; তখন কিছুটা বেশি দাম আমরা নিই। না হলে তো ব্যবসাই করা যাবে না।

সম্প্রতি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ফলের দাম নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, শুল্ক পরিশোধের পরও মাল্টা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ডলারের বাজারের ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলের প্রকৃত শুল্কহার ১২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মানুষকে বেশি বেশি ফল কেনায় উৎসাহিত করতে চায় সরকার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি