ঢাকা   ০৩:১০:৫৪ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

প্রবাসে থাকা “বাবার” অপেক্ষায়

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, June 21, 2020,
  • 254 Time View

২১ জুন ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম,

রাব্বি হাসান,নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাগী চেহারা, গম্ভীর মুখ, শক্ত চোয়াল, সংসারের ভাগ্যের চাকার ঘানি টানা মানুষটার নাম বাবা। পরম স্নেহ, মায়া মমতা, শাসন, নির্ভরতার পরম আশ্রয় বাবা। প্রতিবছর জুনের ৩য় রবিবার এলেই পুরো পৃথিবী জুড়ে জানান দেয় একক পরিশ্রমী, চাপা কষ্টের আড়ালে হেসে যাওয়া, নিজের স্বপ্ন হত্যা করে পরিবারের স্বপ্নকে আগলে রাখার এক শ্রেষ্ট মানুষ” বাবার” কথা।

ছেলেবেলা থেকেই বাবাকে তেমন করে কাছে পাওয়া হয়নি। ভাগ্যের চাকাকে উজ্জ্বল করতেই বাবা পাড়ি জমায় প্রবাসে। হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও বাবার ভালোবাসার এক বিন্দু পরিমাণ ও কমতি লক্ষ্য করিনি। শৈশবে পৃথিবীতে দেশ হিসেবে দু’টো জানতাম একটা আমার বাংলাদেশ একটা বাবা যেখানে পাড়ি জমিয়েছে “বিদেশ”। এখন বড় হয়ে পৃথিবীতে দেখি অনেক দেশ কিন্তু বাবার সেই বিদেশ নামক শব্দটির অনুভূতি এখনো হৃদয়ে জানান দেয়।

সময়টা ২০০৬, আমাদের এলাকায় তখন মোবাইল ফোন তেমন একটা আসেনি, বাবার সাথে যোগাযোগ করার একমাত্র মাধ্যমে ছিল ডাক যোগে চিঠি। আমরা তিন ভাই বোন চিঠি কিভাবে লিখতে হয় জানতাম না। লিখতেন মা। আমাদের নামেই বেশি লিখতেন। পরম যত্নে ভালোবাসার সাদা খামে ভরে দিতেন মার হাতের লিখা চিঠি।

প্রিয়তম,
কেমন আছো? আমরা বাসার সবাই ভালো আছি। নিজের যত্ন নিও। সাবধানে কাজ করো। তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি তোমার আদরের পরিবার।

ডাক হরকরার কাছে চিঠি দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতো মাসের পর মাস৷ বাবার চিঠি কবে আসবে সেই অপেক্ষা করতাম। অপেক্ষার পালা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতো। মাস পেরিয়ে যেত আমাদের অপেক্ষা যেন মৃত্যুর সমান যন্ত্রণা নিয়ে আসতো। বাবা চিঠি পেয়ে উত্তর দিতেন মাস দুই পর। কতটা আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়ে আমরা হারিকেনের কিংবা কুপীর আলোয় চিঠি পড়তাম। দেখতাম দরজা বন্ধ করে মাঝে মাঝেই মা বাবার চিঠি বুকে নিয়ে কান্না করতো।

ঠিক ঐ শৈশবে, আকাশে এরোপ্লেন দেখলেই দৌড়ে গিয়ে মাকে বলতাম উড়োজাহাজ দিয়ে বাবা আসতেছে। মা ও তখন খুশি করার জন্য বলতো হ্যাঁ তোর বাবা আসতেছে। সেই শুরু শৈশবের বন্ধু দের সাথে প্রায় এরোপ্লেন দেখলে বলতাম আমার বাবা আসতেছে বিদেশ থেকে। শৈশবের স্মৃতি গুলো পুরোটা ছিল বাবাময়।

কিন্তু আজ আধুনিকতার যুগে, বিজ্ঞানের যুগে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও নিমিষেই বাবার সাথে যোগাযোগ করা যায়, ভালোবাসা, আগ্রহ, আর উদ্দীপনা যেন দিনদিন কমতি করছি। এখন আর মা হারিকেনের আলোয় চিঠি লিখে না, চিঠির অপেক্ষায় আমরাও কাতর হই না, মা ও কান্না করে না, উড়োজাহাজ দেখলে বন্ধু দের বলি না বাবা বিদেশ থেকে আসতেছে। তবে ভালোবাসা টের পাওয়া যায়।

এই মহামারী করোনায় ও বাবা প্রবাসে থেকে দিনরাত আমাদের চিন্তায় ব্যতি ব্যস্থ। তাই তো,
দিন শেষে বলা যায়,
দিন শেষে জানানো যায়
তুমি দূরে অন্য ভূমিতে
ভালোবাসি প্রতি মুহুর্তে
“বাবা”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি