• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
জাতীয় যাকাত সংগ্রহে শীর্ষে ডিসি ফরিদা খানম ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, একদিন পরই প্রত্যাহার পিআইও সামাজিক মাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক বরখাস্ত মেঘনায় যুবদল-ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল :”একটা একটা লীগ ধর -ধইরা ধইরা জেলে ভর ” শ্লোগানে মুখরিত মেঘনায় গ্রাম আদালত অচল, থানায় চলছে বিচার মেঘনায় অপরাধ দমনে মাঠে পুলিশ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহল মেঘনায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে প্রেরণ মেঘনায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান, মাঠে থাকার নির্দেশনা বিএনপির মেঘনায় কালভার্ট আছে, সড়কে সংযোগ নেই

সিডরের ১৩ বছরে বাঁধ ভেঙেছে ১৩ বার

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০

১৫ নভেম্বর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

সিডরে ভেঙেছিল বাঁধ। প্রবল স্রোতে তান্ডব চালিয়ে ছিল লোকালয়ে। সেই ভয়াবহ সিডরের ১৩ বছর পার হলেও এখানে নির্মাণ হয়নি টেকসই সুরক্ষা বাঁধ।

বলছি, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর ও বিষখালী নদী ঘেঁষা জিনতলা ও পদ্মা বেড়ি বাঁধের কথা। ২০০৭ সালে সিডরে বাঁধ দুটি ভেঙে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন দেখা দিলেই বারবার অস্থায়ীভাবে মেরামত করে ঠিকাদাররা হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এখানকার মানুষের দুর্ভোগ কখনোই শেষ হয়নি।

বরগুনা পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা রুহিতা এলাকার আব্দুর রহমান, সিডর কেড়ে নিয়েছে যার পরিবারের ১১ জনের জীবন।  এখানের জাকির হাওলাদার হারিয়েছেন তার পরিবারের ৭ জনকে। এভাবে এই এলাকার ৫২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সিডর।

সিডরের আঘাতে সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে একজন আলমগীর ফকির, যার পৈত্রিক সম্পত্তির সবটুকুই বলেশ্বরের গর্ভে। শুধু আলমগীর ফকিরের মতো গত ১৩ বছরে নিঃস্ব হয়েছেন আব্দুর রহমান, বেলায়েত, মতি মাস্টার, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর, কবির খানসহ অর্ধশতেরও বেশি পরিবার।

এই পরিবারগুলোর দাবি, অন্তত ভিটেমাটি টুকু টিকিয়ে রাখতে সরকার টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ করুক।

গত আগস্টেও সামুদ্রিক নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল জোয়ারের তোড়ে পদ্মা জিনতলা এলাকার এক কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যায়।  লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের ৮টি গ্রামের বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এখানের বাসিন্দাদের।

তারা বলছেন, পদ্মা ও জিনতলা এলাকায় স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে আশপাশের এলাকাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ওই এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। সিডরের পর একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড।  দেখা যায়, ফি বছর সেই বাঁধটি প্লাবিত হয়ে লোকালয়ের দুর্ভোগ হয়ে প্রবেশ করছে জোয়ারের পানি। যতবারই এই বেড়িবাঁধ ভাঙে ততবারই করা হয় সংস্কার। এভাবে গত ১৩ বছরে বাঁধটি সংস্কার হয়েছে ১৩ বার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ‘বরগুনা জেলার ২২টি পোল্ডারের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের টেকসই সংস্কার ও ভাঙন রোধে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে বরগুনা জেলার কোন এলাকায় আর এ সমস্যা থাকবেনা’।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আগস্ট মাসে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আপাতত দ্রুত সংস্কার কাজ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অনুমোদন হলেই টেকসই সেখানে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ হবে।

এ ছাড়া ভাঙন রোধেও প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন