https://bindubanglatv.com/
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাততালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার নিজেকে পীরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের একজন বলে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আবারও প্রার্থী হবেন উল্লেখ করে তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্যের দুই মিনিটের বেশি সময়ের ওই বক্তব্যের সময় পাশে বসা ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে একাধিকবার হাততালি দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘লিখে দেন, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ।’
নিজের প্রশাসনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউএনও বলেন, পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে কাজ করতে হয়। এ বিষয়ে তাঁর কাছে চিঠি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন, তা প্রশ্নের বিষয়। তাঁর মতে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানের সময় ইউএনওর প্রকাশ্যে হাততালি দেওয়া কাম্য নয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের কেউ কেউ এমন আচরণকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাগত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে আস্থা বজায় রাখা জরুরি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।