ঢাকা   ০৩:১৪:২২ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

ছাত্রদলের উল্লাসে জ্বলে ওঠে প্রাণ স্পন্দন

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Sunday, May 3, 2026,
  • 420 Time View

রাজপথের সেই চেনা দৃশ্য—উচ্চকণ্ঠ স্লোগান, পতাকার দোল, আর চোখেমুখে অনির্বাণ আগুন—আমাকে আজও নাড়া দেয় ভেতর থেকে। ছাত্রদলের প্রাণ পাখি গুলোর উল্লাস যখন দেখি, তখন মনে হয় এ শুধু রাজনীতি নয়, এ এক ধরনের জীবন্ত আবেগ, এক অনির্বচনীয় শক্তি, যা একজন মানুষকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। তাদের সেই ছুটে চলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস, আর প্রতিটি মুহূর্তে সংগঠনকে বুকে ধারণ করার যে দৃঢ়তা—তা সত্যিই অনুপ্রেরণার এক অনন্য উৎস।
ছাত্রদল মানেই কেবল একটি সংগঠন নয়; এটি একটি চেতনা, একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামী ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। সেই ধারাবাহিকতায় যারা আজ রাজপথে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয়, তারা যেন আগুনের স্ফুলিঙ্গ—যেখানেই পড়ে, সেখানেই জ্বালিয়ে তোলে প্রতিবাদের শিখা। তাদের উল্লাসে থাকে প্রতিবাদের ভাষা, তাদের উচ্ছ্বাসে থাকে পরিবর্তনের প্রতিজ্ঞা। এই তরুণদের চোখে যে স্বপ্ন দেখি, তা কেবল ব্যক্তিগত নয়—তা একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।
কখনো কখনো মনে হয়, সময় যদি পেছনে ফিরে যেত! যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম, যখন বুকভরা সাহস নিয়ে রাজপথে নামতাম, যখন প্রতিটি স্লোগান মনে হতো নিজের অস্তিত্বের ঘোষণা। ছাত্রদলের পতাকা হাতে নিয়ে যখন এগিয়ে যেতাম, তখন মনে হতো পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের থামাতে পারবে না। আজও সেই অনুভূতি ভুলে যাইনি। বরং বর্তমান প্রজন্মের উচ্ছ্বাস দেখে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
তাদের মধ্যে আমি খুঁজে পাই সেই অদম্য সাহস, যা প্রতিকূলতার মধ্যেও পথ খুঁজে নেয়। তাদের হাসিতে দেখি বিজয়ের প্রত্যাশা, তাদের চোখে দেখি প্রতিরোধের দীপ্তি। তারা জানে পথ সহজ নয়, তবুও তারা থামে না। কারণ তাদের বিশ্বাস—ন্যায়ের পথে সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না। এই বিশ্বাসই তাদের এগিয়ে নিয়ে যায়, এই বিশ্বাসই তাদের শক্তি।ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী যেন একটি জীবন্ত গল্প। কেউ হয়তো গ্রামের সাধারণ পরিবারের সন্তান, কেউ শহরের ব্যস্ত জীবনের অংশ—কিন্তু রাজপথে তারা সবাই এক, সবাই সংগ্রামী, সবাই একই আদর্শে বিশ্বাসী। এই ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যখন তারা একসাথে স্লোগান তোলে, তখন তা কেবল শব্দ নয়—তা হয়ে ওঠে এক বিশাল শক্তির প্রতিধ্বনি, যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে তাদের নিঃস্বার্থতা। কোনো ব্যক্তিগত লাভের চিন্তা না করে তারা কাজ করে সংগঠনের জন্য, দেশের জন্য। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই তাদের আলাদা করে তোলে। তারা জানে, হয়তো তাদের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে না, তবুও তারা নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যায়। কারণ তাদের কাছে সংগ্রামটাই বড়, আদর্শটাই বড়।আজকের এই সময়ে, যখন অনেকেই হতাশায় ডুবে যায়, তখন ছাত্রদলের এই উল্লাস আমাকে নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। মনে হয়, যতদিন এই তরুণরা আছে, ততদিন অন্যায় কখনো চিরস্থায়ী হতে পারে না। তাদের মধ্যে যে আগুন আছে, তা একদিন না একদিন পরিবর্তনের আলো হয়ে উঠবেই।রাজপথে তাদের ছুটে চলা দেখে মনে হয়, যদি পারতাম—আবারও সেই কাতারে দাঁড়াতাম। আবারও কণ্ঠ মিলাতাম তাদের স্লোগানে, আবারও বুক চিতিয়ে বলতাম সত্যের কথা। কারণ এই অনুভূতি একবার যার ভেতরে জন্ম নেয়, তা কখনো মরে না। সময়ের সঙ্গে হয়তো মানুষ বদলায়, দায়িত্ব বাড়ে, কিন্তু সেই আগুন কোথাও না কোথাও জ্বলতেই থাকে।ছাত্রদলের এই উল্লাস, এই উচ্ছ্বাস আসলে এক ধরনের শক্তি, যা একজন মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। এটি শেখায় কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে নিজের অধিকার আদায় করতে হয়, কীভাবে একটি বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হয়। এই শিক্ষাগুলো শুধু রাজনীতির জন্য নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।, ছাত্রদলের প্রাণ পাখি গুলোর এই উল্লাস কেবল একটি মুহূর্তের আবেগ নয়—এটি একটি চলমান সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি স্লোগান, প্রতিটি হাসি সবকিছুই বলে দেয়, তারা থামার জন্য আসেনি, তারা এসেছে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আর এই এগিয়ে যাওয়ার পথেই তারা জ্বালিয়ে রাখবে সেই আগুন, যা একদিন আলোকিত করবে পুরো দেশ।তাই আজও যখন তাদের দেখি, মনে হয়—হয়তো শরীরে আর সেই আগের শক্তি নেই, কিন্তু হৃদয়ে এখনো সেই স্পন্দন আছে। আর সেই স্পন্দনই বলে, সুযোগ পেলে আবারও রাজপথে নামতাম, আবারও ছাত্রদলের পতাকা হাতে নিয়ে স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠতাম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি