ঢাকা   ০৩:১৫:৩৫ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

মেঘনায় কিশোরীর আত্মহত্যা : স্থানীয় বিচার ও পুলিশিং দায়িত্বে অস্বচ্ছতার অভিযোগ পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : Thursday, May 7, 2026,
  • 429 Time View

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইভা আক্তারের (১২) আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পুলিশের দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগের কয়েক মাস ধরে চলা সামাজিক চাপ, সালিশের নামে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা কিশোরীটিকে মানসিকভাবে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে ইভা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে অপমৃত্যুর মামলা নেয়। তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এটি শুধু আত্মহত্যার ঘটনা নয়; এর পেছনে রয়েছে সামাজিক বিচার প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনে একাধিক পক্ষের ব্যর্থতা।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রমজান মাসে একই এলাকার এক যুবকের সঙ্গে ইভা বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে তার মা শিল্পী আক্তার মেঘনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রলোভন ও অপহরণে সহায়তার বিষয় উল্লেখ করা হয়। এরপর স্থানীয় কৃষক দল নেতা জামান মিয়া, জসিমসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি “মীমাংসার” দায়িত্ব নেন।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সেই বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্ত পক্ষকে রক্ষায় স্থানীয়ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরিবারের এক সদস্য অভিযোগ করেন, “আমরা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর মনে করেছিলাম আইনের মাধ্যমে বিচার হবে। কিন্তু পরে আমাদের বলা হয় স্থানীয়ভাবে মিটমাট করতে। বিচার করতে গিয়ে উল্টো আমাদেরকেই নানা কথা শুনতে হয়েছে।”স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সালিশ বৈঠকে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালীদের অবস্থান বড় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা না করে বিষয়টি দ্রুত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। এতে কিশোরী ও তার পরিবার সামাজিকভাবে আরও চাপে পড়ে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় কৃষক দল নেতা জামান মিয়া। তিনি বলেন, “আমাকে দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাদীপক্ষ উপস্থিত না থাকায় বিচার শেষ করা সম্ভব হয়নি।”ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পুলিশের ভূমিকা। অভিযোগ রয়েছে, থানায় অভিযোগ দায়েরের পরও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদন্ত বা শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরিবার বলছে, অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ স্থানীয় সালিশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে।মেঘনা থানার এএসআই রাসেল বলেন, “স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ হয়েছিল। পরে আর কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।” তবে প্রশ্ন উঠেছে, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ঘটনায় শুধু স্থানীয় সালিশের ওপর নির্ভর করা কতটা যৌক্তিক ছিল।মেঘনা থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।”
আইনজীবীদের মতে, কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় শুধু সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। শিশু সুরক্ষা আইন ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনের আলোকে পুলিশের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন ছিল।জিয়া শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার বলেছেন,  গ্রামীণ সমাজে কিশোরীদের ব্যক্তিগত সংকটকে অনেক সময় “পারিবারিক মান-সম্মান” এর বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এতে তাদের ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। সামাজিক অপমান, বিচারহীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক কিশোরীকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও আড়ালে বলছেন, “বিচার” নামে যেসব সালিশ হয়, সেখানে প্রভাবশালীদের কথাই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়। দরিদ্র পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের বদলে সামাজিক চাপে নীরব থাকতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইভার মৃত্যুকে শুধু আত্মহত্যা হিসেবে দেখলে প্রকৃত বাস্তবতা আড়াল হয়ে যাবে। তারা ঘটনার পূর্বাপর পরিস্থিতি, সালিশ প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিল, পুলিশের ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিল এবং কিশোরীটির মানসিক অবস্থার অবনতির পেছনে কী কী কারণ কাজ করেছে—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি