• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
আবারও ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে গণমাধ্যমকে সতর্ক করল তথ্য অধিদপ্তর জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশনা জারি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু নেত্রকোনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবাসহ নারী আটক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঝুনাগাছচাপানী ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়তে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল করিম হানিট্র্যাপে মুক্তিপণ আদায়, পত্নীতলায় দুই তরুণীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার কর্মদিবসের ৬৬ দিনে ১,২৬৬ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী গ্রেপ্তার: জেলা পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ

আবারও ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা

ডেস্ক রিপোর্ট / ৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

ফুটবলকে অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়। নব্বই মিনিটে কখন, কোথায়, কীভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেই চিরচেনা অনিশ্চয়তারই আরেক অনন্য অধ্যায় রচনা করল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ২–১ গোলের জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল মেসির দল।
আটলান্টার স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনার আবহ। গ্যালারিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড—দুই দলের সমর্থকদের সমান উপস্থিতি ম্যাচটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রথম বাঁশি থেকেই ছিল দ্রুতগতির ফুটবল, শারীরিক লড়াই এবং আক্রমণ–প্রতিআক্রমণের রোমাঞ্চ। দুই দলই নিজেদের রক্ষণে ছিল সতর্ক, আবার সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের গোলমুখে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও ম্যাচের উত্তেজনায় কোনো ঘাটতি ছিল না। মেসির দূরপাল্লার শট, এনসো ফের্নান্দেসের সাহসী প্রচেষ্টা এবং ইংল্যান্ডের পাল্টা আক্রমণ দর্শকদের বারবার আসন ছেড়ে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। মাঝমাঠের লড়াই, বলের দখল এবং কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচটিকে এক মুহূর্তের জন্যও একঘেয়ে হতে দেয়নি।
বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ফিনিশে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যায় নীল-সাদা সমর্থকদের গ্যালারি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন ইংল্যান্ডের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল। সময় যত গড়িয়েছে, আর্জেন্টিনার ওপর চাপও তত বেড়েছে।
তবে এই দলটি বারবার প্রমাণ করেছে, তারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই ছাড়ে না। পিছিয়ে পড়েও আক্রমণের ধার কমায়নি তারা। গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার নিরন্তর চাপ সামলাতে পারেননি।
৮৫ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। নতুন করে প্রাণ ফিরে পান সমর্থকেরা। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্তিনেসের শক্তিশালী হেড ইংল্যান্ডের জালে জড়িয়ে গেলে উৎসবে ফেটে পড়ে পুরো আর্জেন্টিনা শিবির।
এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জেতা নয়; এটি মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। পুরো নকআউট পর্বজুড়েই আর্জেন্টিনা প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছে। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
লিওনেল মেসির বয়স বাড়ছে, কিন্তু তাঁর ফুটবলীয় প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতা যেন আরও পরিণত হয়েছে। গোল না করেও তিনি ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন। সমতার গোলের আক্রমণ গড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে জয়সূচক গোলের নিখুঁত ক্রস—সবখানেই ছিল তাঁর অমলিন ছাপ। এমন পারফরম্যান্সই তাঁকে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।এখন আর্জেন্টিনার সামনে আর মাত্র একটি বাধা। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। আর সেই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা শুরু হয়ে গেছে। সমর্থকদের বিশ্বাস, আরেকটি জাদুকরী রাত উপহার দিতে পারেন মেসি। যদি সেটি হয়, তবে এই বিশ্বকাপ শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প হবে না; এটি হয়ে থাকবে প্রত্যাবর্তন, নেতৃত্ব এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক মহাকাব্য।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন