ঢাকা   ১২:০৫:২২ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে লোডশেডিংয়ে হিমাগারে আলু পচনের শঙ্কা, জেনারেটরে বাড়ছে খরচ

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, August 25, 2026,
  • 56 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মো. আল হাসান:

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জয়পুরহাটের কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত আলু নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে উদ্বেগ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় সংরক্ষিত বীজ ও খাবার আলু পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে নির্ধারিত তাপমাত্রা ঠিক রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে হিমাগার মালিকদের। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায় ১৪টি, ক্ষেতলালে ৪টি, পাঁচবিবিতে ২টি এবং আক্কেলপুর উপজেলায় ২টিসহ মোট ২২টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে প্রায় ২ লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব আলু সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে নিয়মিত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।

হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা না হলে জেনারেটরের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সংরক্ষিত আলুর মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের লোকসানই এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই। চলতি মৌসুমেও আলুর বাজারদর আশানুরূপ না হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। লাভের আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার মধ্যে নতুন করে লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

কৃষক চঞ্চল বাবু বলেন, “আমি ১০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছি। আলুর দাম না থাকায় এমনিতেই খুব চিন্তায় আছি। এর মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচে গেলে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।”

কালাই উপজেলার পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, “আমাদের হিমাগারে বীজ আলু রয়েছে। চারটি কোম্পানি তাদের বীজ আলু এখানে সংরক্ষণ করেছে। লোডশেডিং হলে জেনারেটর চালু করতে হয়। তা না হলে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেনারেটরের জন্য তেল কিনতে গিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।”

আক্কেলপুরের গোপীনাথপুর হিমাগার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ফরহাদ আহম্মেদ বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিকভাবেই নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আমাদের হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার টন বীজ ও খাবার আলু রয়েছে। আলু যেন পচে নষ্ট না হয়, সেজন্য বাধ্য হয়েই জেনারেটর চালু রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যবসায় বাড়তি আর্থিক বোঝা তৈরি হচ্ছে।”

পাঁচবিবি উপজেলার চাঁনপাড়া এলাকার মেসার্স সাথী হিমাগার-৩-এর ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরীও লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগার পরিচালনায় বাড়তি ব্যয় ও নানা সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ক্ষেতলাল উপজেলার হিমাদ্রী লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের হিমাগারে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব আলুর সংরক্ষণ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলু সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

তাই সংরক্ষিত আলু রক্ষায় হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও হিমাগার সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি