ঢাকা   ১১:২৩:১৭ পিএম, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত এক পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 28, 2026,
  • 2 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

যশোর: কক্সবাজারের ইনানী সৈকতের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত যশোরের মণিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় স্থানীয় বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে মোহনপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

এর আগে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিহত নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা তানজি (৩৬), দুই কন্যাসন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানার (৩) মরদেহ মনিরামপুরের গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোকার্ত প্রিয়জনদের শেষবার দেখা এবং সমবেদনা জানাতে সকাল থেকেই নিহতের বাড়িতে ভিড় জমান হাজারো মানুষ।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত তুহিন ঢাকার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত ‘গ্রান্ড পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন। কর্মক্ষেত্রের সুবাদে তিনি সপরিবারে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন।

গত ১৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে অবকাশ যাপনে কক্সবাজার যান তিনি। পরদিন শুক্রবার তারা সমুদ্রপাড়ের টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন।সেখানে অবস্থানকালীন গত ১৮ অক্টোবর (শনিবার) সকালে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটলে চারজনই দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।নিহত তুহিনের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, আগুনে পুড়ে মরদেহগুলো এতটাই বিকৃত হয়েছিল যে চেনার কোনো উপায় ছিল না। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে নিহতের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান ঢাকায় এসে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা দেন। পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের হাসপাতাল থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনরা জানান, ১০ বছর আগেই তুহিনের মা মারা গেছেন। তার একমাত্র বড় ভাই সিলেটে কর্মরত। গ্রামের বাড়িতে একমাত্র বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান একা থাকেন। চোখের সামনে মেধাবী ছোট ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই শিশু নাতনির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতির পাশাপাশি তার ডায়াবেটিসও আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়ে গেছে।বিলাপ করতে করতে নিহতের বাবা মতিয়ার রহমান বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্রপাড়ে যেভাবে অস্থায়ী কাঠের রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ । কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে সমুদ্র পাড়ে যেন এমন অনিরাপদ রিসোর্ট আর গড়ে তুলতে দেওয়া না হয় তার জন্য তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনরোধ জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি