ঢাকা   ১১:৩৯:১২ পিএম, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীরবেই চলে গেল মহান নেতা শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের জন্মদিন

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, October 28, 2026,
  • 0 Time View
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মোঃ মিলন শাহ্, বিশেষ প্রতিনিধি:

কোনো ধরনের আড়ম্বর বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গত ২৬ অক্টোবর নীরবেই পার হয়ে গেল অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী। বাঙালির অধিকার আদায়ে আজীবন লড়াকু এই সিংহপুরুষের স্মরণে দেশজুড়ে তেমন বড় কোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক চরম বিস্ময়।

১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালের সাটুরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। ক্ষুরধার মেধা ও অসামান্য বাগ্মিতার জন্য তিনি ‘শের-ই-বাংলা’ বা ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে ভূষিত হন।বাঙালি সমাজ, দেশ ও জাতি গঠনে তাঁর অবদান অতুলনীয়। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষক সমাজকে জমিদারদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তাঁর হাত ধরেই গঠিত হয় ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’, যা কোটি কোটি নিঃস্ব কৃষককে দেনার দায় থেকে মুক্তি দেয়। প্রজাস্বত্ব আইন পাসের মাধ্যমে তিনি কৃষকদের জমির মালিকানা নিশ্চিত করেন।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতেও তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। কলকাতার ঐতিহাসিক লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকার ইডেন কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর प्रस्तावের উত্থাপক হিসেবে তিনি বাঙালি মুসলিমদের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

জনমানুষের এই নেতা সর্বদা বলতেন, “যে জাতি তার ইতিহাস ভুলে যায়, সে জাতি কখনো বড় হতে পারে না। আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমি করি শোষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের রাজনীতি।”
একটি আত্মমর্যাদাশীল সমাজ ও জাতি গঠনে শেরে বাংলার যে আত্মত্যাগ, তা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দিবসটি নীরবেই পেরিয়ে গেলেও পত্নীতলাসহ সারা দেশের আপামর জনতা তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি