https://bindubanglatv.com/
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন ফের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা (৫০) বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে নূরু হাওলাদার (৭০), আঃ লতিফ হাওলাদার (৬৬), শামীম হাওলাদার (৪৫), হাবিবুর রহমান (৫৭), মাসুদ হাওলাদার (৩০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), রফিক হাওলাদার (৩৫) ও ইউসুফ হাওলাদার (৩০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাদীর সঙ্গে অভিযুক্তদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার পাইপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাদীর বাড়ির পূর্ব পাশে গিয়ে তার ভাই মজিবুর রহমান ইমাম মোল্লাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাদীর স্ত্রী হাজেরা আক্তার মুন্নী, হারুন আকন ও খোকন আকনকেও মারধর করা হয়। এতে চারজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় অভিযুক্তরা প্রাণনাশসহ বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এরপর ৩ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে লোহার শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাদীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় খাট, চৌকি, তোষক, কম্বল, বালিশ, চালের ড্রাম, ধান-চাল, হাঁড়ি-পাতিল, ছাগল, লোহার তার, সিমেন্টের পিলার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া বাড়ির পেছনে থাকা বিভিন্ন ফলদ ও কলাগাছসহ প্রায় ১৫০টি চারা গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আনোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ জরুরি সেবায় ফোনে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিরোধীয় জমিতে ঘর ভেঙে ফেলার ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগে ওঠা হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।