ঢাকা   ০৯:৪১:৩৯ পিএম, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে নার্সের রুমে হিসাবরক্ষক, অতঃপর নারী কেলেঙ্কারি

Reporter Name
  • Update Time : Friday, November 27, 2020,
  • 202 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

২৭ নভেম্বর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

হিসাবরক্ষকের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার হাসপাতালে গত ৩ দিন ধরে চলছে তোলপাড়। এ ঘটনায় হিসাবরক্ষকসহ ২ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে গরু চুরি নিয়ে ‘চিৎকার চেচামেচি’ বলে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাজার ‘খ্রীষ্টিয়ান মিশন’ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ডেভিট তাপাদার গত ২৪ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৩টায় এক নার্সের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি হাসপাতালের কর্তব্যরত নাইটগার্ড সাধন টের পান। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই কক্ষের নার্সের চিৎকারে কর্তব্যরত নাইটগার্ড সাধনসহ হাসপাতালের লোকজন ছুটে যান। এ সময় উপস্থিত লোকজন হিসাবরক্ষক ও নার্সের কাছ থেকে লিখিত নেন।

ঘটনার পরদিন ভোরে ওই নার্সকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হিসাবরক্ষক ডেভিড বহাল থাকায় শুরু হয় তোলপাড়। খবর ছড়ায় হাসপাতালের হেড অফিস ঢাকায়। ২৬ নভেম্বর হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ফাল্গুনি সরকার ছুটে যান ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতালে।

সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক ফাল্গুনি সরকার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক ডেভিড তপাদারকে সাথে করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। অপকর্মের জন্য ডেভিড তপাদারকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে।

একাধিক সূত্রে জানায়, হিসাবরক্ষক ডেভিড হেড অফিসের বিশ্বস্ত লোক বলে ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে নানা অপকর্মে লিপ্ত। নার্স কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রথম ফাঁস হলেও, অন্তরালে অপ্রকাশিত অনেক ঘটনা রয়েছে।

তার এসব অপকর্মের সাথে একজন সিনিয়র নার্সও সম্পৃক্ত বলে সূত্রটি নিশ্চিত করে। ওই সিনিয়র নার্স পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জোর অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এমনকি মিডিয়ায় মুখ না খোলার জন্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত নার্সকে নিষেধ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নার্স জানান, ৩ বছর থেকে তিনি মিশন হাসপাতালে চাকরি করছেন। হিসাবরক্ষক ডেভিড অসৎ উদ্দেশ্যে তার কক্ষে যান। এ সময় তিনি চিৎকার করলে হাসপাতালের নাইট গার্ডসহ লোকজন ছুটে যান। তাদের কক্ষের দরজায় তালা দিয়ে আটকে রাখেন। ২৬ নভেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোর তার অব্যাহতিপত্র নেয়।

অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক ডেভিড তপাদার জানান, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

সেদিন রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, গরু চোর হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। ওই নার্স ছুটিতে আছেন বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের ইনচার্জ ডাক্তার ডেভিড তন্ময় বিশ্বাস ঘটনার তথ্য এড়িয়ে বলেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৯ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর ডাক্তার ডেভিড তন্ময় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গৃহবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিলো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি