• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় ২০ সরকারি দপ্তরে জনবল সংকট মাঠের দায়িত্ব শেষে ব্যারাকে ফিরছে সেনাসদস্যরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলাই এখন সবচেয়ে জরুরি অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স, মেঘনায় উন্নয়ন বঞ্চিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে — ড. মোশাররফ কোরবানির পশুর হাট ইজারাদার: শুধু ব্যবসা না আধিপত্য মেঘনায় ইয়াবাসহ আটক মোসলেম মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ “তিন মাসে চার খুন” বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, একটি হত্যাকাণ্ডের তথ্য মিলছে না মেঘনায় জমি সংক্রান্ত জেরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুন-জখমের আশঙ্কার অভিযোগ দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলছে এনসিপি: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার মামলায় আ’লীগের ৮৬ নেতাকর্মী আসামি

দুদক অধ্যাদেশ ২০২৫: সংস্কারের নামে কতটা বাস্তব পরিবর্তন?

বিপ্লব সিকদার / ৪৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন–২০০৪ সংশোধন করে সরকার যে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে, তাকে প্রথম দেখায় সংস্কারমূলক উদ্যোগ বলে মনে হলেও গভীর বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি সত্যিই দুদককে কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথ খুলে দিল, নাকি সীমিত কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যেই সংস্কারের দাবি পূরণ করা হলো।নতুন অধ্যাদেশে কমিশনার সংখ্যা অনধিক পাঁচ জন নির্ধারণ, একজন নারী ও একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কমিশনার রাখার বিধান যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে প্রথমবারের মতো সরাসরি আইনের আওতায় আনা এবং মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধের তফসিল সম্প্রসারণকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে কর ফাঁকি, পুঁজিবাজারে কারসাজি, চোরাচালান ও মুদ্রা পাচারের মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দুদকের তদন্তক্ষমতা কাগজে-কলমে আগের চেয়ে বেড়েছে।
তবে এসব ইতিবাচক দিকের আড়ালেই রয়ে গেছে মূল বিতর্ক। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অভিযোগ করেছে, দুদক সংস্কার কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সুপারিশগুলো অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্কার কমিশন দুদককে ‘স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা নতুন অধ্যাদেশে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে দুদককে মুক্ত করার প্রশ্নটি আগের মতোই অমীমাংসিত থেকে গেল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘সার্চ কমিটি’র পরিবর্তে ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’ গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কমবে, সে প্রশ্নও জোরালো। কারণ কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের মনোনীত সংসদ সদস্য থাকার বিধান থাকায়, নিয়োগে দলীয় বিবেচনা পুরোপুরি দূর হওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরেকটি বড় আপত্তির জায়গা হলো জবাবদিহি। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুস্পষ্ট বিধান অধ্যাদেশে নেই। সংস্কার কমিশন যেখানে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স জোরদারের কথা বলেছিল, সেখানে নতুন আইন সেই কাঠামো দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মত টিআইবির।টিআইবির মতে, দুদক সংস্কার শুধু আইন সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা। তারা মনে করে, অধ্যাদেশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন থাকলেও এটি দুর্নীতি দমনের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন