ঢাকা   ০৬:৪০:১৯ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দালালচক্রের ফাঁদে মধ্যপ্রাচ্যমুখী বাংলাদেশি নারী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • Update Time : Thursday, May 7, 2026,
  • 604 Time View
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বহুমুখী দালাল ও মানবপাচার সিন্ডিকেট। চাকরি, উচ্চ বেতন, “ভালো পরিবারে কাজ” কিংবা দ্রুত ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রামের দরিদ্র ও স্বল্পশিক্ষিত নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অনেক ক্ষেত্রে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির আড়ালে অবৈধ দালাল চক্র কাজ করছে, যারা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিদেশের নিয়োগকর্তা পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
সম্প্রতি মানবপাচার ও নারী নির্যাতন নিয়ে একাধিক অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় সিন্ডিকেটের উপস্থিতির তথ্য পেয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নারী ও শিশুদের বিদেশে পাচারের ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো ভুয়া চাকরির প্রলোভন, জোরপূর্বক আটকে রাখা, যৌন নির্যাতন এবং অবৈধ শ্রমে বাধ্য করার মতো কৌশল ব্যবহার করছে। সূত্র -The Daily Star +2
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে “স্থানীয় প্রতিনিধি” বা “মাইগ্রেশন সহকারী” পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি নারীদের বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত। এরা সাধারণত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে গৃহকর্মী বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির কথা বলে পরিবারগুলোকে রাজি করায়। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কেউ টাকা দিতে না পারলে সুদে ঋণ বা জমি বন্ধক রাখার ব্যবস্থাও করে দেয় দালালচক্র।
বিদেশে যাওয়ার পর বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে দাঁড়ায়। নির্ধারিত চাকরির বদলে অতিরিক্ত শ্রম, বেতন না দেওয়া, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এক বাংলাদেশি নারীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে—সৌদি আরবে “অফিসের চাকরি” দেওয়ার কথা বলে তাকে গৃহকর্মে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘ সময় অমানবিক পরিবেশে কাজ করানো হয়। সুত্র -The Daily Star
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নারী শ্রম অভিবাসনের সঙ্গে বৈধ ও অবৈধ চ্যানেলের সীমারেখা অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে নারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরলেও অধিকাংশ নারী বিচার পান না। কারণ, অনেক ঘটনা “সমঝোতা” কিংবা “পারিবারিক লজ্জা”র কারণে চাপা পড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় দালাল সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিমানবন্দরে ক্লিয়ারেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ সনদ ও ভিসা প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ ভিজিট ভিসা বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করেও বিদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও উপকূলীয় অঞ্চলেও একই সিন্ডিকেট সক্রিয়। সেখানে নারী ও কিশোরীদের মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নামে পাচারের চেষ্টা বাড়ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে নারী ও শিশুদের উদ্ধার এবং পাচারকারীদের গ্রেফতারের ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই জোরালো করেছে।  সূত্র – The Daily Star +3

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মানবপাচার সিন্ডিকেট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রও জড়িত। সম্প্রতি বিদেশি নাগরিক জড়িত নারী পাচারের অভিযোগে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, ভুয়া বিয়ের ফাঁদে ফেলে নারীদের বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। সূত্র –
New Age
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, পারিবারিক সংকট এবং দ্রুত আয় করার প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে এই চক্রগুলো নারীদের টার্গেট করছে। সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ায় অনেক নারী ঝুঁকি জেনেও বিদেশমুখী হচ্ছেন। বিশেষ করে স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা কিংবা দরিদ্র পরিবারের নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।তারা বলছেন, কেবল অভিযান চালিয়ে এই সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনশক্তি রপ্তানি কর্তৃপক্ষ, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে মানবপাচারের এই চক্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি