ঢাকা   ০৬:৪১:৫৮ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশালের ইউএনওকে না পেয়ে ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, August 14, 2026,
  • 58 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

এম.এ.এইচ. রাকিবুল ইসলাম:

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক আরাফাত সিদ্দিকীকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সারাদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে না পেয়ে বিভিন্ন সেবার জন্য আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীর মধ্যে ভোগান্তি ও হতাশা দেখা দেয়।

উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ, আবেদনপত্রে স্বাক্ষর, শুনানি, পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ নানা প্রয়োজনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বহু মানুষ ইউএনও কার্যালয়ে এলেও তাকে অফিসে পাননি বলে অভিযোগ করেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যান।

সেবাপ্রার্থীদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজের জন্য ইউএনওর অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হওয়ায় তাদের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এতে সময় ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

এদিকে বুধবার (১২ আগস্ট) ত্রিশালের একটি বালুঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষের অভিযোগ, অভিযানের সময় ইউএনওকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেক পক্ষ দাবি করেছে, অভিযানের সময় ইউএনওর আচরণে তাদের একজন কর্মচারী আহত হন। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এই ঘটনার পরদিন ইউএনওকে সারাদিন অফিসে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জানতে চান, তিনি প্রশাসনিক কাজে বাইরে ছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আরাফাত সিদ্দিকী একই সঙ্গে ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে তার অনুপস্থিতির প্রভাব উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজেও পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, “একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনগণের সেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই প্রশাসনের সেবা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, “স্যার আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অফিসে আসেননি। আমি বিকেল ৪টার পর অফিস থেকে চলে এসেছি। কেন তিনি অফিসে আসেননি, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”

অফিস প্রশাসকের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদিন ইউএনওর অনুপস্থিতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পেশাজীবীরা ইউএনওকে না পেয়ে অপেক্ষা শেষে ফিরে যান।

তবে ইউএনওর অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি