ঢাকা   ০৪:৫৯:৪৯ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 16, 2026,
  • 60 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

হাবিবুর রহমান:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে নির্মাণাধীন নদীবন্দর প্রকল্পে নিম্নমানের ও খারাপ পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প এলাকায় এসব পাথর পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীবন্দর টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও নদীর তীর সংরক্ষণকাজের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পাথর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পাথরের কিছু অংশ ময়লা-আবর্জনাযুক্ত, মরা ও নিম্নমানের।

স্থানীয়দের দাবি, গত ৮ আগস্ট প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনিও প্রকল্প এলাকায় নিম্নমানের পাথর পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। পাথরের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকল্প পরিচালক সেগুলো খারাপ মানের বলে জানান এবং সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। সংসদ সদস্যও পাথরগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাথর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিন পরও সেগুলো প্রকল্প এলাকা থেকে সরানো হয়নি। বরং এসব পাথর পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

চিলমারী নদীবন্দর প্রকল্পটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় চিলমারী উপজেলার রমনা, জোড়গাছ, নয়ারহাট এবং রৌমারী ও রাজিবপুর এলাকায় নদীবন্দর অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবায়নকাল ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এদিকে প্রকল্পের কাজের ধীরগতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণে তারা উদ্বিগ্ন। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মাজু ইব্রাহিম, রেজাউল করিম, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুম, সুজন ও শহিদুলসহ অনেকে বলেন, প্রকল্প এলাকায় নিম্নমানের পাথর পড়ে থাকার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজে কোনোভাবেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না বলেও দাবি করেন তারা।

চিলমারী নদীবন্দরের দায়িত্বে থাকা পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র রায় বলেন, নির্মাণ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকল্প পরিচালকের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, “পাথরগুলো খারাপ। এগুলো ওখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। বিষয়টি আমি দেখছি।”

চিলমারী নদীবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ মোল্লা বলেন, পাথরগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এবং এগুলো কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

গত ৮ আগস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাথর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি; সরিয়ে নেওয়া হবে।”

নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়টি নিয়েও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি