ঢাকা   ১১:১০:২১ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্ঘটনায় আহত বখতিয়ারের পাশে নোবিপ্রবি, সফল অস্ত্রোপচার

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, August 26, 2026,
  • 50 Time View
  • ১১ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

ওমর ফারুক:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আব্দুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় আহত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হাসিনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিত সহযোগিতায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে নওগাঁয় তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ২২ আগস্ট আব্দুল মালেক উকিল হলের সিঁড়ির নিচে জমে থাকা পানিতে দুর্ঘটনাবশত পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন বখতিয়ার হাসিন। এতে তার পায়ের প্যাটেলা (হাঁটুর হাড়) ভেঙে চার টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর তার সহপাঠীরা দ্রুত তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।

পরে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ কাইয়ুম ও সংশ্লিষ্টরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে বখতিয়ারকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের নির্ধারিত সময় এগিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। এতে অস্ত্রোপচারের সময় প্রায় দুই দিনের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ঢাকায় বখতিয়ারের চিকিৎসার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আইরিন আক্তারও সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গত ২৪ আগস্ট রাতে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

বখতিয়ারকে নওগাঁয় নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেন সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাছান। একই সঙ্গে তার পরিবারকেও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বখতিয়ার হাসিনকে ৩০ হাজার টাকা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ক্লাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।

নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বখতিয়ারকে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাকে ৩০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করছে। আশা করি, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসবে।”

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, “বখতিয়ার আহত হয়েছে শুনে সঙ্গে সঙ্গে সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, ভিসি স্যারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রশাসন পুরো বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সাহায্য করার। ভিসি স্যার, জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার, আইরিন ম্যামসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

একই বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শান্তা বলেন, “আবদুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় বন্ধু বখতিয়ারের হাঁটুর প্যাটেলা ভেঙে চার টুকরো হয়ে যাওয়ার পর শুরু থেকেই নোবিপ্রবি প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স প্রদান থেকে শুরু করে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা আর্থিক সাহায্য করা, সবকিছুর জন্যই আমরা কৃতজ্ঞ।”

তিনি বলেন, “বিশেষ করে সংকটের সময়ে আমরা প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিসি স্যার যে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

নুসরাত জাহান শান্তা আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কঠিন সময়ে পাশে থেকে স্যার যে মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং সুস্থ ও কল্যাণময় রাখুন, স্যার।”

বখতিয়ারের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগও বখতিয়ারের পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে ঢাকায় চিকিৎসার উদ্যোগ, পরে নওগাঁয় নেওয়া, অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা—প্রতিটি পর্যায়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে বখতিয়ার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি