ঢাকা   ০১:১৭:১৬ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবিদ্বারে ত্রাণ চাওয়ায় যুবককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, April 12, 2020,
  • 256 Time View

১২ এপ্রিল ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্ট :

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অসহায়দের জন্য ত্রাণ চাওয়ায় চৌকিদার দিয়ে আশেকে এলাহী নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

শনিবার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১০নং দক্ষিণ ঘুনাইঘর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আশেকে এলাহী  জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় ১১০ জনকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেকে তার আছে এলে তিনি তাদের ত্রাণ সামগ্রী দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁনকে অনুরোধ জানান।

আশেকে এলাহীর অভিযোগ, চলমান সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫৯ জনের একটি তালিকা নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। তারা ভাষায়, ‘তালিকা নিয়ে চৌকিদাররে দেখাইলাম। সে বলে কিছু করতে পারবে না। মেম্বারের কাছে গেলাম। সে বলে চেয়ারম্যানের কাছে যাইতে। চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পর সে আমার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করছে। আমারে বলে আমি কি চেয়ারম্যান হমু নাকি, এমপি হমু নাকি। আমার এতো দরদ ক্যান।থ

চেয়ারম্যান ত্রাণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তালিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছেও যান। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগ এনে চারজন চৌকিদার দিয়ে আশেকে এলাহীকে তুলে আনতে পাঠান চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম।

এলাহী বলেন, ‘ দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান আমার বাসায় চারজন চৌকিদার পাঠান। তারা আইসা আমাকে বলে যাদের তালিকা দিয়েছি তাদের ত্রাণ দিবে। চেয়ারম্যান আমাকে ডেকেছে। আমি তাদেরকে তালিকা নিয়ে যেতে বললে তারা আমাকে যেতে হবে বলে জানায়। পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন করি। তিনি আমাকে যেতে বলেন। ফোন চৌকিদারদের দিলে তিনি আমার সামনে চৌকিদারদের বলেন, আমার যেন পা মাটিতে না পড়ে সেভাবে তুলে নিয়ে যেতে।থ

পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রাও তার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কাছে যান। বাড়ি থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে বন্দী করে তাকে দফায় দফায় তিন বার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই যুবক। তিনি জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং ফেসবুকে চেয়ারম্যানের পক্ষে ভিডিও বার্তা দেয়ার পর বিকাল চারটায় তাকে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোনো সক্রিয়তা দেখালে তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটির বেশি মামলার হুমকি দেন চেয়ারম্যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের বিষয়টি  সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আব্দুল হাকীম বলেন, ‘আমি তাকে কেন মারব, সে আমার ভাতিজা। আমি তাকে কোনো মারধর করিনি।থ

ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে কেন পঞ্চাশটা মামলা করব? পঞ্চাশটা মামলা করতে আমার পঞ্চাশ টাকা হলেও খরচ হবে। আমি কেন তার পেছনে টাকা খরচ করতে যাব।থ

আশেকে এলাহী যে তালিকা নিয়ে ত্রাণের জন্য আবেদন করেছিলেন, সেসব ব্যক্তি ও পরিবার ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, তালিকায় থাকা সবাই ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য। তবে, আশেকে এলাহীর করা তালিকার প্রায় অর্ধেক নাম চেয়ারম্যানের তালিকায় রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান বলে তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়নি।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ত্রাণ দেয়ার জন্য পুরো ইউনিয়ন থেকে চারজনের একটা তালিকা করছি। সে এক বাড়ি থেকে এতজনের নাম আনলে হবে নাকি? আমাদেরকে বলা আছে, যারা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা পায় তারা করোনাভাইরাসের চাউল পাবে না।থ

কজন ব্যক্তি কত টাকা বয়স্ক ভাতা পান?  এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পাশের ব্যক্তিদের কাছে প্রশ্ন করতে হয়েছে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীমকে।

সূত্র: ঢাকা টাইমস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি