ঢাকা   ০৮:২০:০০ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রীকে ‘ধর্ম মেয়ে’ বানিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ, লাপাত্তা মাদ্রাসা শিক্ষক

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, December 15, 2020,
  • 222 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

১৫ ডিসেম্বর ২০২০, বিন্দুবাংলা টিভি. কম, ডেস্ক রিপোর্টঃ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক ছাত্রীকে ‘ধর্ম মেয়ে’ বানিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করছিলেন মাদ্রাসার এক শিক্ষক। এ ঘটনা জানাজানির পর লাপাত্তা মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্রী ও তার পরিবার।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উম্মাহাতুল মোকমেনিন আদর্শ মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মাওলানা আবুল মনসুর (৫৫)। এলাকায় ‘হুজুর’ বলেই ব্যাপক পরিচিত। ওই হুজুর হচ্ছেন পাশের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামের মো. বছির উদ্দিনের ছেলে। গত প্রায় ১০ বছর আগে তিনি পাশের উচাখিলা বাজারের জমি কিনে বাড়ি করেন। বাসার সামনেই গড়ে তোলেন মাদ্রাসা। কোরআন শিক্ষার পাশপাশি একাধিক শিক্ষক রেখে তিনি এখানে কোচিং ব্যবসাও করেন। এলাকার প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী মাদ্রাসাটিতে পড়াশোনা করে।

জানা যায়, হুজুর আবুল মনসুর এলাকাতে দুটি বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রীও একসঙ্গে বসবাস করেন। এ অবস্থায় পাশের একটি গ্রামের কিশোরীকে ‘ধর্ম মেয়ে’ বানিয়ে ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন নিয়মিত। এক পর্যায়ে হতদরিদ্র ওই কিশোরীকে পরিবারের কাছে বলেকয়ে নিজ খরচেই মাদ্রাসায় রেখেই পড়াশোনা করার দায়িত্ব নেন। এরই মধ্যে তার কুমতলব টের পেয়ে কিশোরী তার (হুজুর) হাত থেকে বাঁচতে চলে যায় বাড়িতে। বেশ কয়েকদিন আর মাদ্রাসায় আসেনি।

মেয়েটির মা জানান, তার মেয়ে আর মাদ্রাসায় যাবে না বলে মন খারাপ করে থাকে। আর কোনো কিছুই বলে না। এ অবস্থায় একদিন হুজুর বাড়িতে এসে অনেক হাদিসের কথা বলে ফের মেয়েকে নিয়ে যায়। মাসখানেক পর মেয়ে আবার বাড়িতে চলে এসে জানায় বিভিন্ন শপথ করে হুজুর তাকে নিজের স্ত্রীর মতো আচরণ করেন এবং প্রতিবাদ করায় বিয়ে করবে বলে সাদা স্ট্যাম্পেও সই নেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে গত শুক্রবার কথিত হুজুরকে ডেকে এনে মেয়ের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কাছে মেয়ে হুজুর কর্তৃক দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনাটি সালিসে মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক প্রচার হয়।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান একএম মোতব্বিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মেয়ের পরিবারের লোকজন গত শুক্রবার তার কাছে এসে একটি সাদা স্ট্যাম্প দেখান। স্ট্যাম্পে মেয়ের ও মাদ্রাসা শিক্ষকের সই রয়েছে। পরে ওই পরিবারকে থানার আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এলাকায় এসে খোঁজ-খবর নিলে মেয়ের সন্ধান পায়নি। পরিবারের লোকজন মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে। সে সঙ্গে লাপাত্তা হয়ে গেছেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কতিপয় সালিসকারীরা অভিযুক্তের কাছ থেকে মোটা অংকের জরিমানা আদায় করে মেয়ে ও তার পরিবারকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, মেয়েটার খোঁজ নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সন্ধান পাওয়া মাত্রই লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি