ঢাকা   ০৫:৪৫:০২ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রান্তিকে অসংগতি ধামাচাপা শিল্পে রূপ নিচ্ছে

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Tuesday, March 17, 2026,
  • 756 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

রাষ্ট্র ও সমাজের প্রান্তিক স্তরে নানা ধরনের অসংগতি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সব মিলিয়ে এসব সমস্যার অনেকগুলোই প্রকাশ্যে আসে না। বরং ধীরে ধীরে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যেখানে অসংগতি প্রকাশের পরিবর্তে তা ধামাচাপা দেওয়াই যেন স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রবণতা এখন অনেক ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘শিল্পে’ রূপ নিচ্ছে।প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রায়ই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এসব অভিযোগের অনেকগুলোই তদন্তের আগেই থেমে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা প্রশাসনিক সমঝোতার কারণে সত্য সামনে আসার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা ছিল, সেটিই নীরবে চাপা পড়ে যায়।এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার ফল নয়; এর পেছনে রয়েছে জবাবদিহির সীমাবদ্ধতা এবং ভয়ের সংস্কৃতি। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সাধারণ মানুষ অনিয়মের কথা প্রকাশ করতে চান না, কারণ এতে ব্যক্তিগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অভিযোগ করেও যদি ফল না পাওয়া যায়, তখন মানুষ ধীরে ধীরে নীরবতা বেছে নেয়। এই নীরবতাই অসংগতিকে টিকিয়ে রাখার বড় সহায়ক হয়ে ওঠে।গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে লুকিয়ে থাকা অসংগতি প্রকাশ্যে আসে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা এবং চাপের কারণে অনেক সত্যই অন্ধকারে থেকে যায়। ফলে ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা আরও শক্তিশালী হয়।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি শক্তিশালী করা। অভিযোগ তদন্তের নিরপেক্ষ ব্যবস্থা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে ক্ষমতায়ন করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা পরিসংখ্যানের উন্নতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্নও জড়িত। প্রান্তিক পর্যায়ের অসংগতি যদি বারবার ধামাচাপা পড়ে যায়, তবে তা শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকেই দুর্বল করে দেয়। তাই এখনই প্রয়োজন এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ় উদ্যোগ। অন্যথায় অসংগতিকে ঢেকে রাখার এই অদৃশ্য শিল্প এক সময় সমাজের জন্য বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।

 

লেখক – সাংবাদিক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি