ঢাকা   ০৫:৪৪:৫৯ এএম, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন ড.মোশাররফ

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Wednesday, April 8, 2026,
  • 793 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য এখন দেশের সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা এবং লেখক হিসেবে যার পরিচিতি সমানভাবে আলোচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখার দাবি বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তার বর্ণাঢ্য জীবনপথ বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে উঠেছে।উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ড. মোশাররফ হোসেন ১৯৪৬ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে স্নাতকোত্তর এবং পরে যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন এবং দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা জীবনে তার অবদান কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিল না; গবেষণা ও একাডেমিক লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের ভূতাত্ত্বিক জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। একাডেমিক ও গবেষণামূলক লেখক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে, যা তাকে অন্যান্য রাজনীতিবিদদের থেকে আলাদা করেছে।রাজনীতিতে তার প্রবেশ ঘটে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে একাধিকবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  তার মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে নীতি নির্ধারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য ছিল।বিশেষ করে ২০০২ সালে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।  জনস্বাস্থ্য খাতে তার কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও, রাজনৈতিক জীবনে বিতর্কও তাকে ছাড়েনি।তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে পতীত সরকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে এবং জেল ও জুলুমের শিকার হয়।২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা -১ (দাউদকান্দি -মেঘনা)আসন থেকে   তিনি নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রবীণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন।  এই ভূমিকা তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তার পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে তার ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে একটি ‘স্টেটসম্যান’ চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে।রাষ্ট্রপতি পদে তাকে দেখার আলোচনা মূলত তার অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের কারণে। বাংলাদেশের মতো বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন অভিজ্ঞ ও তুলনামূলকভাবে মৃদুভাষী নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রবণতা অস্বাভাবিক নয়।তবে রাষ্ট্রপতি পদটি সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ ও প্রতীকী হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এর গুরুত্ব অনেক। তাই এমন পদে আসীন হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির অতীত, বিতর্ক, দলীয় অবস্থান এবং গ্রহণযোগ্যতা সবকিছুই বিবেচ্য হয়ে ওঠে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ শিক্ষাবিদ এবং অভিজ্ঞ প্রশাসক। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা যেমন অর্জনে ভরপুর, তেমনি বিতর্কেও চিহ্নিত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে দেখার দাবি তাই একদিকে যেমন তার অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি, অন্যদিকে তা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলনও বটে।

লেখক – সাংবাদিক।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি