• শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
দগ্ধ লামিয়ার পাশে মানবিক ড.খন্দকার মারুফ হোসেন মেঘনায় হত্যা-অগ্নিসংযোগ-অপহরণে আসামি ধরতে ধীরগতি, জনমনে উৎকণ্ঠা সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে টেকসই নীতি জরুরি শিশু-কিশোর গড়ার স্বপ্নে জিয়ার আদর্শের অগ্রযাত্রা মেঘনায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত মেঘনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে যুবক গ্রেপ্তার, মোবাইল জব্দ দাউদকান্দি-বাউশিয়া নদীবন্দর দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ মেঘনার অগ্নিদগ্ধ শিশু লামিয়ার পাশে ড. মারুফ, নিলেন চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব মেঘনায় বিএনপি কর্মীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ , পরিদর্শনে বিএনপির প্রতিনিধি দল মেঘনায় জুয়ার আসর থেকে ৮ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও তাস জব্দ

মেঘনায় হত্যা-অগ্নিসংযোগ-অপহরণে আসামি ধরতে ধীরগতি, জনমনে উৎকণ্ঠা

বিপ্লব সিকদার / ১২৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত হত্যা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও অপহরণের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

 

একের পর এক গুরুতর অপরাধের পরও অধিকাংশ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামে। গত ২৬ মার্চ রাতে আলী শাহ ভাণ্ডারীর ওরস মাহফিলে নারীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় শাহজালাল ওরফে সাব্বির (২০) ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরদিন ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় লক্ষ্মণখোলা গ্রামের মোড়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ৩১ মার্চ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত জিহাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মেঘনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাঈমের বাবা বাবুল মিয়াকে (৪৫) পুলিশ ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করে ৩০ মার্চ কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা এখনো পলাতক রয়েছে।হত্যাকাণ্ডের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ২৩ এপ্রিল বুধবার সকাল ১১টার দিকে মুগারচর কে. আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মেঘনা থানার সামনে গিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”একই উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামেও ২১ এপ্রিল বিকেলে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপিপন্থি সালাম গ্রুপ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি মনোয়ার মেম্বার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার এবং একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে, নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনাও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ১৭ এপ্রিল সকালে ইউসুফ নামে এক যুবক ও তার সহযোগীরা মেয়েটিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরে তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করেছে। ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে অনেক আসামি মেঘনার বাইরে, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় পালিয়ে থাকে। ফলে গ্রেপ্তারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, “সাব্বির হত্যা মামলায় একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। অন্যরা ভিন্ন জেলায় অবস্থান করছে। অন্যান্য ঘটনাতেও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজহারুল হক শাহিন বলেন, “এই ডিজিটাল যুগে আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারা দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। এতে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে।”উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর লোকমান হোসেন বলেন, “একদিকে ধারাবাহিক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, অন্যদিকে আসামি গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার প্রমাণ। আমরা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নিতে চাই, কিন্তু আমাদের ডাকা হয় না।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান ভুইয়া বলেন, “আসামিরা পালিয়ে থাকতে পারে, তবে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।”সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, “শুধু মামলা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারলে তা দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে। এতে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।”সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় জনমনে বিরাজমান উৎকণ্ঠা আরও বাড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন