ঢাকা   ০৫:৪০:১৪ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 29, 2026,
  • 76 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মো. আরিফুল ইসলাম:

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের খোলা তালাকের আপোষ মীমাংসাপত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না হওয়া এবং উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবির কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্ট্যাম্পে সম্পাদিত আপোষ মীমাংসাপত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন (পিতা: মো. মোবারক হোসেন), গ্রাম—মাস্টারপাড়া, ডাকঘর ও থানা—ভাঙ্গুড়া, জেলা—পাবনা এবং দ্বিতীয় পক্ষ মোছা. গোলাপী খাতুন (পিতা: মো. সিরাজুল ইসলাম), গ্রাম—উত্তর মেন্দা, ডাকঘর ও থানা—ভাঙ্গুড়া, জেলা—পাবনার মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে দেনমোহরসহ সব হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপোষ মীমাংসা সম্পন্ন হয়।

আপোষনামা অনুযায়ী, কাবিনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টাকা। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকে সম্মত হন দ্বিতীয় পক্ষ। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থ বুঝে পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ ভবিষ্যতে দেনমোহর বা এ-সংক্রান্ত কোনো দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি দাবি করবেন না বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া আপোষনামায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে আপোষনামার কার্যকারিতা নিয়েও আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাকে ওই সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমি স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছি। এখন আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবার সংসার করতে চাই।”

অন্যদিকে মোছা. গোলাপী খাতুন বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করব না। তিনি আমাকে জমির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন। আমি আগের সংসার থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোও আমাকে ফেরত দেননি। এছাড়া আমাকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটিও আজ পর্যন্ত দেননি। তাই আমি তার সঙ্গে আর সংসার করতে চাই না।”

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন—ইমরান হোসেন (প্রথম পক্ষের ভাই), ভাঙ্গুড়া পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. আলামিন এবং মোছা. মিতা খাতুন (দ্বিতীয় পক্ষের খালা)।

বর্তমানে আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি