ঢাকা   ০৪:১২:০৮ পিএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে মানব পাচারমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 31, 2026,
  • 70 Time View
  • ৮ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মোহাম্মদ হোসাইন:

বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে টেকনাফে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক নাটিকা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহ-অর্থায়নে সেড (SHED) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক ইয়ুথ পিসবিল্ডার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক, সাংবাদিক, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। পরে মানব পাচারের কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মানব পাচারের কৌশল, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়। নাটিকাটি উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম বলেন, “মানব পাচার শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এ অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও তরুণদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতন সমাজই মানব পাচার রোধের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

হ্নীলা-মৌলভীবাজার জমিরিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল আলম বলেন, “মানব পাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার বিকল্প নেই। তরুণদের সচেতন করে তুলতে পারলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আবুল হাসেম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দালালচক্রের অপতৎপরতা রোধে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশিষ্ট আইনজীবী শাহিন শাহ বলেন, “মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।”

দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণমাধ্যম সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে মানব পাচারবিরোধী জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।

গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মংটিং অং সীমান্ত এলাকার মানুষকে দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

ক্যাম্প-২৪-এর আরআরআরসি কার্যালয়ের আইএ মো. সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানবিক সংকটকে পুঁজি করে অপরাধীরা মানব পাচারের চেষ্টা চালায়। তাই সন্দেহজনক যেকোনো তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এপিবিএনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর মাইনুদ্দিন এবং টেকনাফ থানার সাব-ইন্সপেক্টর ইকবাল বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ অপরাধ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহামা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুরাই মানব পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার। তাই পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

ইয়ুথ পিসবিল্ডার তানজিনা মোহাম্মদ জয়া ও আমিনুল ইসলাম তরুণদের মানব পাচারবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন যুবসমাজই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং মানব পাচারমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

বক্তারা বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মানব পাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি