ঢাকা   ১১:৪২:৫১ এএম, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনা সেতুর পাশেই সড়ক যেন জলাবদ্ধতার ফাঁদ

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, August 8, 2026,
  • 72 Time View
  • ১৯ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

স্টাফ রিপোর্টার:

রাত তখন প্রায় ১১টা ১৫ মিনিট। দিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা। চারপাশ অনেকটাই নীরব। হঠাৎ কানে আসে ব্যাঙের ডাক। গ্রামবাংলার রাতের পরিচিত সেই শব্দ প্রথমে ভালোই লাগছিল। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরই বাস্তবতা অন্যরকম হয়ে ধরা দেয়। সামনে যে জায়গা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে হবে, সেটি রাস্তা নাকি পুকুর—বোঝার উপায় নেই। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সড়কের বড় অংশ। কোথায় গর্ত, কোথায় খানাখন্দ, কোথায় রাস্তার মূল অংশ—কিছুই বোঝার উপায় নেই। অন্ধকারে সামান্য ভুল হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

এ দৃশ্য কোনো প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের নয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলাের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ইসলামপুরমুখী সড়কের চিত্র এটি।

আশপাশে গড়ে উঠেছে দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। মেঘনা শিল্পাঞ্চলকে ঘিরে কয়েক দশকে পাল্টে গেছে এলাকার অর্থনীতি, বেড়েছে শিল্পকারখানা, শ্রমিক ও ভারী যানবাহনের চলাচল। সরকারি তথ্যেও পিরোজপুর ইউনিয়নকে উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্পকারখানার জন্য পরিচিত এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু শিল্পায়নের সেই জৌলুশের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ভিন্ন এক বাস্তবতা—একটি ভাঙাচোরা, জলাবদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক।

স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষায়, “মেঘনা গ্রুপ, হোলসিম, মদিনা গ্রুপ—এতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকার পরও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে ইসলামপুরের এই রাস্তা কেন মেরামত করা হয় না, সেটাই বুঝি না। বর্তমান এমপি সাহেবের বাসা থেকেও রাস্তার দূরত্ব খুব বেশি নয়। তারপরও এই সড়কের দুরবস্থা কেন কাটছে না, কেউ জানে না।”

এই প্রশ্নটি শুধু একজন বাসিন্দার নয়। সড়কটির বর্তমান অবস্থা দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটি কার দায়িত্বে? কতদিন ধরে এমন অবস্থায় আছে? কখন সর্বশেষ সংস্কার হয়েছে? সংস্কারের জন্য কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি না? হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কতটুকু? আর যদি প্রকল্প না থাকে, তাহলে কেন নেই? এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ মেঘনাঘাট-ইসলামপুর এলাকা সাধারণ কোনো আবাসিক অঞ্চল নয়। এখানে শিল্পকারখানা, শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা, পণ্যবাহী যানবাহন—সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিপুল মানুষের চলাচল। সরকারি শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থাপনার তথ্যেও ইসলামপুর-মেঘনাঘাট এলাকায় একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অর্থাৎ সড়কটি শুধু স্থানীয় মানুষের চলাচলের পথ নয়; এটি শিল্পাঞ্চলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

তারপরও বর্ষায় এই সড়কের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পথচারী কিংবা চালকের কাছে রাস্তা ও জলাশয়ের পার্থক্য করাই কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা যেন এই সড়কের নিয়মিত সঙ্গী। আর বর্ষা না থাকলে শুরু হয় ধুলাবালির দুর্ভোগ। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙা অংশ, কোথাও আবার জমে থাকে পানি। ফলে একদিকে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এসব দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলে সংখ্যাগতভাবে তা নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। কিন্তু সড়কের সরেজমিন অবস্থা এবং স্থানীয়দের অভিযোগ নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সমস্যা—নিষ্কাশনব্যবস্থা। একটি সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার শুধু কার্পেটিং করে শেষ করার বিষয় নয়। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে নতুন সড়কও অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে নদী ও শিল্পাঞ্চলঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে সড়কের উচ্চতা, পাশের ড্রেনেজ, কালভার্ট এবং পানি চলাচলের পথ পরিকল্পিতভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

মেঘনা সেতুর টোল প্লাজার দক্ষিণ প্রান্তে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার বিষয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ওই এলাকার লেন দিয়ে শিল্পকারখানার মালবাহী ট্রাক-লরি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল। অর্থাৎ জলাবদ্ধতার সমস্যা এখানে নতুন নয়। প্রশ্ন হলো—সমস্যাটি যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন?

শিল্পায়নের কারণে মেঘনাঘাট এলাকার চেহারা গত কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। ১৯৯০ সালে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পর নদীতীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী কারখানা স্থাপন শুরু করে। বর্তমানে মেঘনা ইকোনমিক জোনসহ বিস্তৃত শিল্পকার্যক্রম রয়েছে এলাকায়।

মেঘনা গ্রুপের শিল্পকারখানা নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ২৪৫ একর জায়গাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্প এসেছে, কর্মসংস্থান এসেছে, মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু সেই শিল্পায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় সড়ক অবকাঠামো কতটা উন্নত হয়েছে—এই প্রশ্নটি এখন সামনে আনা প্রয়োজন।

কারণ একটি শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন শুধু কারখানার সীমানার ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিল্পের সঙ্গে শ্রমিকদের যাতায়াত, কাঁচামাল পরিবহন, উৎপাদিত পণ্য পরিবহন, স্থানীয় মানুষের চলাচল—সবকিছুর জন্য কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশ গজ বা কয়েক কিলোমিটার দূরেই যদি মানুষের চলাচলের রাস্তা বর্ষায় পুকুরে পরিণত হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক—প্রশ্ন থেকেই যায়।

এখানে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রথমেই পরিষ্কার হওয়া দরকার, টোল প্লাজা থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত ঠিক কোন অংশটি কোন সংস্থার আওতাধীন। এটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে হলে সেই সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা জরুরি। কারণ দায়িত্ব কার, সেটিই যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে সংস্কারের দাবি বারবার ঘুরপাক খেতে পারে।

এর আগে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার নিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ঘটনাও সংবাদে এসেছে। একটি সড়কের পুনর্নির্মাণের জন্য এলজিইডির দরপত্র, কার্যাদেশ এবং কাজ অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছিল। তাই ইসলামপুরের এই সড়কের ক্ষেত্রেও শুধু “সংস্কার হবে”—এমন আশ্বাস যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজের সময়সীমা এবং বাস্তব অগ্রগতির তথ্য।

স্থানীয়দের আরেকটি অভিযোগ—শুকনো মৌসুমে এই সড়ক ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বর্ষায় পানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলো—দুই মৌসুমেই দুর্ভোগ। এ যেন সড়কটির নিজস্ব দুই রূপ। একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে ধুলাবালি। এর সঙ্গে রয়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা পণ্যবাহী যান—সব চালককেই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।

রাতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলে পানিতে ঢাকা গর্ত চোখে পড়ার সুযোগ থাকে না। চালককে অনুমান করে এগোতে হয়। একটি ভুল সিদ্ধান্তই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দার রাতের অভিজ্ঞতাটি তাই নিছক ব্যক্তিগত দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি একটি অবকাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

আরেকটি বিষয়ও সামনে আসে—এই সড়কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব। মেঘনাঘাট এলাকায় একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি নথিতেও ইসলামপুর-মেঘনাঘাট এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, শিল্পাঞ্চলের আশপাশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো অংশগ্রহণ আছে কি না। স্থানীয় জনগণের জন্য করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআরভিত্তিক কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না—সেটিও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

অবশ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া যায় না। রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষেরই। কিন্তু যেসব এলাকায় শিল্পকারখানার কারণে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে, সেখানে শিল্পায়ন ও স্থানীয় অবকাঠামোর মধ্যে সমন্বয় আছে কি না—তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। কারণ একটি শিল্পাঞ্চল শুধু উৎপাদন করবে, কিন্তু তার পাশের জনপদ কাদা-পানিতে ডুবে থাকবে—এমন উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সরেজমিনে কারিগরি পরিদর্শন। সড়কের দৈর্ঘ্য কত? কত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত? কোথায় পানি জমে? পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ কোথায়? কতগুলো কালভার্ট বা ড্রেন প্রয়োজন? সড়কের বিদ্যমান উচ্চতা কত? ভারী যানবাহনের চাপ কতটা? গত কয়েক বছরে এ সড়কে কী কী সংস্কার হয়েছে? কোনো প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ হয়েছে কি না? হয়ে থাকলে কাজের মান কেমন? প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া শুধু পিচ ঢেলে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

বরং বর্ষার পানি আবার জমবে, পিচ উঠে যাবে, গর্ত তৈরি হবে এবং কয়েক মাস পর একই দুর্ভোগ ফিরে আসবে। তাই স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক উঁচু করা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, কালভার্ট বা ড্রেন নির্মাণ এবং টেকসইভাবে সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সড়ক সংস্কারের নামে যদি নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে জনগণের অর্থ ব্যয় হলেও দুর্ভোগ কমবে না। সড়ক আবার ভাঙবে, আবার বরাদ্দ আসবে, আবার সংস্কারের কথা উঠবে। এভাবে একটি রাস্তা হয়ে উঠতে পারে বারবার বরাদ্দের প্রকল্প, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ থেকে যাবে একই জায়গায়।

ইসলামপুরের এই সড়কের ক্ষেত্রেও তাই স্থানীয়দের প্রশ্নটি খুবই সরল—রাস্তা কি সত্যিই মেরামত হবে, নাকি বর্ষা এলেই আবার ব্যাঙের ডাকের সঙ্গে পানির নিচে হারিয়ে যাবে?

মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে অল্প দূরত্বে শিল্পসমৃদ্ধ একটি জনপদ। পাশে বড় শিল্পকারখানা, সামনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার, অথচ যোগাযোগব্যবস্থার এমন দুরবস্থা উন্নয়নের বৈপরীত্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা চান না বড় কোনো প্রতিশ্রুতি। তাঁরা চান চলাচলের উপযোগী একটি নিরাপদ রাস্তা। চান বর্ষার পানিতে রাস্তা আর পুকুরের পার্থক্য বোঝা যাক। চান শুকনো মৌসুমে ধুলার মেঘের বদলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে। চান রাতে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার গর্তে পড়ে জীবন বা সম্পদ নিয়ে শঙ্কিত হতে না হয়। আর চান, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ একবার অন্তত সরেজমিনে এসে দেখুক—মেঘনা সেতুর পাশের এই সড়কটি আসলে কী অবস্থায় আছে।

কারণ উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি শুধু বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি নয়; সেই শিল্পাঞ্চলের পাশে বসবাস করা সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনকভাবে চলাচল করতে পারছেন—সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুরের এই সড়ক তাই এখন একটি রাস্তার গল্প নয়। এটি শিল্পায়ন ও জনজীবনের মধ্যকার বৈপরীত্যের গল্প। এটি দায়িত্ব নির্ধারণের গল্প। এটি পরিকল্পিত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার গল্প। আর সবচেয়ে বেশি—এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্নের গল্প: রাস্তা যদি সবার জন্য হয়, তাহলে এই রাস্তার দায়িত্বটা আসলে কার?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি